1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
ভারত কি কখনো কোহিনূর হীরা ফেরত পাবে? - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

ভারত কি কখনো কোহিনূর হীরা ফেরত পাবে?

মতিয়ার চৌধুরী
  • মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০২৩
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে
ভারত কি কখনো কোহিনূর হীরা ফেরত পাবে?

ব্রিটেনের রাজমুকুট থেকে হীরা উদ্ধারের জন্য ভারতের অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভারত এখনও কোহিনুরটি তাদের হাতে পায়নি, কিন্তু মহামূল্যবান এই রত্ন নিয়ে চলমান বিতর্ক সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশটির সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সাফল্য অনেকটা অস্পষ্ট ।

২০১৪ সাল থেকে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঔপনিবেশিক যুগে বা তারও আগে হারিয়ে যাওয়া রত্ন  ফিরিয়ে নেয়া  তার অন্যতম  মিশন হিসেবে দেখছেন । ভারত নেতার  এই  কৌশলটি ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশ থেকে  হারিয়ে যাওয়া ধনরত্ন ফেরত নেবার  প্রচেষ্টাকে অনেকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত হীরা ফেরত নেওয়ার জন্য নৈতিক যুক্তি জয় করার একটি বুদ্ধিমান উপায়।

এর পেছনে যেমন ভারতের রয়েছে যুক্তি এবং প্রমাণও। তার পরেও মহামূল্যবান এই হিরকখন্ড নিয়ে দাবীদার আরো অনেকে পাকিস্তান, আফগানিস্থান, ইরানও হিরক খন্ডটি ফেরত চাইছে। হিরক এর ইতিহাস সম্পর্কে যতদূর জানা যায় আসলে এই মহামূল্যবান রন্তটি ভারতের। এটি ছিল পাঞ্জাবের শিখ রাজার।

হিরক খন্ডটি ব্যবহার করেছেন মোগল সম্রাট শাহজাহান , এর পর আফগানরা তালুট করে নিয়ে যায়, তা আবার ঘুরে আসে ভারতের কাছে সর্বশেষ শিখ রাজার  উত্তরাধিকারীদের হাত থেকে চলে আসে ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পেনীর কাছে। এই হলো এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।  নরেন্দ্রমোদী  কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অনেক দেশে তার ভ্রমণ থেকে সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছেন।

ভারত চায় ‘পান্ডলিপিতে সহযোগিতা… বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে,’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি প্রতিনিধি নিউজ ওয়েবসাইট পলিটিকোকে বলেছেন।যা চুরি করা হয়েছিল তা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে । আর এনিয়ে ভারত  আন্তর্জাতিক আইনীদৃষ্টিকোন থেকে  সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি ভারতের  একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ যা বড় সফলতা আশা করা যায়।

২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সরকারী সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি ১৫৭টি প্রত্নবস্তু নিয়ে ভারতে ফিরে আসেন সংগ্রহের অর্ধেক হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সাথে যুক্ত মূর্তি এবং অন্যান্য। গত বছরের জুলাই মাসে মোদি অস্ট্রেলিয়াকে ২৯টি ভারতীয় বংশোদ্ভোত প্রত্নবস্তু ফেরত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন যেগুলি দেশ থেকে অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছিল: ভাস্কর্য, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফ এবং এতে নবম শতাব্দীর একটি স্ক্রোল অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত বছর গ্লাসগো জাদুঘর সাতটি চুরি যাওয়া প্রত্নবস্তু ফেরত দিতে সম্মত হয়েছিল, এটি ছিল গ্রেটব্রিটেনের একটি জাদুঘর থেকে ভারতে প্রথম প্রত্যাবর্তন।

১৪ শতকের খোদাই করা এবং ১১ শতকের পাথরের দরজার জাম সহ ছয়টি জিনিস যেগুলো ১৯ শতকে মন্দির থেকে চুরি হয়েছিল। সেগুলো পরে গ্লাসগো মিউজিয়ামে উপহার  হিসেবে দিয়ে দেয় ভারত।  দক্ষিণ ভারতের একটি মন্দির থেকে তোলা ব্রোঞ্জের মূর্তি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে অক্সফোর্ডের অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের কাছে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ মিউজিয়াম এবং ভিএন্ডএ এছাড়াও জাতীয় ট্রাস্টের পাশাপাশি পৃথক দাবির মুখোমুখি।

কিছু কিছু  বড় বিষয় রয়েছে যাদুঘর আইন দ্বারা আইটেম প্রত্যাবাসন থেকে বাধা দেয় তবে এই বিধিনিষেধগুলি জাতীয় ট্রাস্টের মতো দাতব্য সংস্থাগুলিতে প্রযোজ্য নয়।অধিকাংশই ভারত থেকে পাচার হওয়া আইটেমগুলির মধ্যে হিন্দু এবং বৌদ্ধ দেবতার মূর্তি এবং চিত্রকর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ভারতের জন্য একটি প্রমাণ্য যুক্তি রয়েছে। যা এই ধরনের ধনগুলি প্রাচীন ধর্মীয় এবং সংস্কৃতির অংশ, কেড়ে নেওয়ার আগে বংশ পরম্পরায় লালিত পবিত্র বস্তু; এবং একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং চরিত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে ভারতের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের একমাত্র প্রকৃত রক্ষক এবং গ্যারান্টার হিসাবে উপস্থাপন করার মোদীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লক্ষ্যের সাথে এটি খুব সামন্জস্যপূর্ন।

একই সময়ে তাদের চুরি হওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের প্রচেষ্টা ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে পরিবর্তিত মনোভাব নিয়ে ক্রমশই জোরালো ভাবে আলোচিত হচ্ছে। ২০২০সালে নেদারল্যান্ডস ১,৫০০ লুণ্ঠিত ধন ইন্দোনেশিয়াকে ফিরিয়ে দিয়েছে, এটি ছিল তাদের একটি প্রাক্তন উপনিবেশ। জার্মানি গত বছর নাইজেরিয়াকে ২১টি বেনিন ব্রোঞ্জ ফিরিয়ে দিয়েছে, ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ব্রোঞ্জের সংগ্রহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে৷ ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রন আফ্রিকাতে ঔপনিবেশিক বস্তুগুলিকে পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে একটি বিতর্ক শুরু করেছেন: ফ্রান্স ২০২১ সালে বেনিনে ২৬টি ঐতিহাসিক বস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। যা চুরি করা হয়েছিল তা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে তার একটি অবিসংবাদিত শক্তিশালী অনুরণন রয়েছে।

এটি এমন একটি অনুভূতি যা ভারত শোষণে ধীরগতি করেনি তার সবথেকে বড় পুরস্কার: কোহহিনূর হীরা ফেরত পাওয়ার জন্য। যদিও এটি একটি  কঠিন যুদ্ধ, কারণ হীরার উৎপত্তি এবং মালিকানা  বিতর্কিত। কোহিনূর রাণী ভিক্টোরিয়াকে ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি পাঞ্জাবের অধিভুক্তির পর দিয়েছিল এবং এখন তা রাজমুকুটের গহনার অংশ। এবং তার প্রত্যাবর্তনের জন্য ভারতের দাবিগুলি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানের নিজ নিজ সরকারের মালিকানার প্রতিদ্বন্দ্বী দাবির কারণে জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে ব্রিটেন জোর দিয়ে বলছে যে তারা ১৮৪৬ সালের একটি চুক্তিতে আইনত হীরাটি পেয়েছে। হীরাটি রাণী মায়ের মুকুটে রয়েছে, যা রানী ক্যামিলা চার্লস তৃতীয়ের-এর রাজ্যাভিষেকের সময় পরতে দেখা যায়নি। তারও একটি কারণ রয়েছে   ভারতকে  বিরক্ত না করার জন্য ক্যামিলিয়া পরিধান করেননি ।

অনেকেই মনে করেন  এটি ‘ঔপনিবেশিক অতীতের বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে আনে’। লন্ডনের টাওয়ারহিল জাদুগরে মুকুট রত্নগুলির পরের সপ্তাহে একটি প্রদর্শনের আগে ঐতিহাসিক রয়্যাল প্যালেসেস দ্বারা জারি করা অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিত এই  হীরাকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD