1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
মৌলভীবাজারে ন্যায় বিচারের দাবিতে কাউন্সিল'র মেয়ের সংবাদ সম্মেলন - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারে ন্যায় বিচারের দাবিতে কাউন্সিল’র মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ সালেহ আহমদ (স'লিপক), মৌলভীবাজার
  • রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারে ন্যায় বিচারের দাবিতে কাউন্সিলরের মেয়ের সংবাদ সম্মেলন
মাদকবিরোধী কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে গিয়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ মাসুদ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিঃশর্ত ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ মাসুদ কাউন্সিলরের মেয়ে নাদিয়া মোহাম্মদ। এসময় বড়কাপন এলাকার এলাইছ মিয়া, গোলাম হোসেন, রাশেদ আলম প্রমুখ সহ মৌলভীবাজারের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নাদিয়া মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য ও প্রেস রিলিজে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ মাসুদ এর মেয়ে নাদিয়া মোহাম্মদ বলেন, আমার বাবা একটানা ৫ বারের মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমার বাবার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার বিষয়ে আমাদের পরিবারের গভীর উদ্বেগ, কষ্ট এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা তুলে ধরার জন্য।
তিনি বলেন, আমার বাবা মোঃ মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং দায়িত্বের বাইরেও তিনি এলাকার মানুষের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। প্রতিমাসে তিনি অসংখ্য অসহায় ও দরিদ্র পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করে থাকেন।
তাঁর সহযোগিতার ওপর অনেক পরিবার নির্ভরশীল। শুধু আমাদের পরিবার নয়, তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া অনেক পরিবারও আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে অসহায় বোধ করছে। মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শেরেবাংলা অ্যাওয়ার্ড ও মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডসহ বেশকিছু সম্মাননা অর্জন করেছেন। মৌলভীবাজারসহ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি নয়, মানুষের বিপদের আপনজন আমার বাবা মোঃ মাসুদ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং দায়িত্বের বাইরেও তিনি সবসময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মোঃ মাসুদ ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে নিয়মিত ভরণপোষণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এই সহযোগিতা কোনো এককালীন অনুদান নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে থাকার একটি ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগ।
অনেক পরিবার তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য এই সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের পরিবারের কাছেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাবার এই মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন অসুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।
মৌলভীবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও তিনি সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শেরেবাংলা অ্যাওয়ার্ড ও মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন। আমি এসব বিষয় উল্লেখ করছি কাউকে প্রভাবিত করার জন্য নয়; বরং একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ভূমিকা ও তাঁর সম্পর্কে এলাকার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য।
মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ও বর্তমান ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্টমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন। আমাদের এলাকার যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার জন্য আমার বাবা দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। দুঃখজনকভাবে, মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বরকাপন এলাকায় গত কয়েক বছরে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এলাকার যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে আমার বাবা এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছিলেন। মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরিতে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গত ৩ নভেম্বর মাদকবিরোধী একটি ঘটনায় সহযোগিতা করতে গিয়ে আমার বাবাসহ কয়েকজনকে উল্টো মামলার আসামি হতে হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন মাদকসংক্রান্ত একটি খবরের ভিত্তিতে আমার বাবা ও এলাকাবাসী রকি, লিটন ও তানভীর নামের তিন ব্যক্তিকে আটক করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাঁদের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য যোগাযোগ করা হলে এসআই আবু সাঈদসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য হলো, যদি আমার বাবা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পুলিশের ঘনাস্থলে উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েই আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। পরবর্তীতে দায়ের করা মামলায় আমার বাবাসহ মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারী একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।
তিনি আরো বলেন, আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই। তবে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-যাঁরা মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
এব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন- মাদকনিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে গিয়ে যদি সাধারণ মানুষ ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিরা মামলার আসামি হন, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ মাদক নির্মূলে সহযোগিতা করতে কতটা উৎসাহিত হবেন? গত ৩ নভেম্বরের ঘটনায় কারা কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা কি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হয়েছে? আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ, পুলিশের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে কি?
প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কেউ যদি হয়রানি বা অন্যায় মামলার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে? আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে চাই না। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং অপরাধী যে-ই হোক, সে যেন আইনের আওতায় আসে। একই সঙ্গে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত দাবিগুলো জানানো হয়- ১. গত ৩ নভেম্বর বরকাপন এলাকার ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে হবে। ২. ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনা উন্মাটন করতে হবে।
৩. মামলার এজাহার, অভিযোগের ভিত্তি, ঘটনাস্থলের তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। ৪. তদন্তে কোনো ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা থেকে আইনানুগভাবে অব্যাহতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৫. বরকাপনসহ মৌলভীবাজারের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে হবে এবং প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ৬. মাদক নির্মূলে পুলিশকে সহযোগিতাকারী সাধারণ নাগরিক ও সচেতন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সামাজিক দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত না হন।
একজন সন্তান হিসেবে আমার বাবার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করছি উল্লেখ করে নাদিয়া মোহাম্মদ বলেন, আমার বাবা শুধু আমাদের পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি এলাকার অনেক অসহায় মানুষের আশ্রয় ও ভরসার জায়গা। তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা মৌলভীবাজারের বহু মানুষ জানেন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, কাউকে অন্যায়ভাবে দায়মুক্তি দেওয়ার দাবিও করছি না। আমরা শুধু চাই, আমার বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হোক এবং তিনি যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাঁদের ভূমিকা ও ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের জনগণ, সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসন এবং মানবাধিকারকর্মীদের কাছে এই ন্যায়বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। আমরা মাদকমুক্ত মৌলভীবাজার এবং নিরপরাধ মানুষের আইনি নিরাপত্তা চাই।

Share this news as a Photo Card

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira
08 November 2026

মৌলভীবাজারে ন্যায় বিচারের দাবিতে কাউন্সিল'র মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

www.banglakantho.com |
বিস্তারিত কমেন্টে...

Designed by: Sylhet Host BD