<!DOCTYPE html> <html> <?php global $themesbazar; ?> <head><meta http-equiv="Content-Type" content="text/html; charset=utf-8"> <meta name="viewport" content="width=device-width, initial-scale=1"> <link rel="profile" href="http://themesbazar.com"> <title><?php wp_title(''); ?></title> <link rel="icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <link rel="shortcut icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <?php $image = wp_get_attachment_image_src( get_post_thumbnail_id( $post->ID ), 'single-thumbnail' ); ?> <meta property="og:title" content="<?php the_title(); ?>" /> <meta property="og:description" content="" /> <meta property="og:image" content="<?php echo $image[0]; ?>" /> <meta property="og:video" content="" /> <meta property="og:video:width" content="560" /> <meta property="og:video:height" content="340" /> <meta property="og:video:type" content="application/x-shockwave-flash" /> <!-- head section --> <!-- skin --> <link rel="stylesheet" href="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/skin/skin.css"> <!-- CDNBye hls.js --> <script src="https://cdn.jsdelivr.net/npm/cdnbye@latest/dist/hls.light.min.js"></script> <!-- flowplayer --> <script src="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/flowplayer.min.js"></script> <?php wp_head();?> <?php include('css/dynamic-css.php'); ?> </head> <body> <!------------- Archive start ---------------> <script src="https://code.jquery.com/jquery-1.12.4.js"></script> <script src="https://code.jquery.com/ui/1.12.1/jquery-ui.js"></script> <script type="text/javascript"> $(function() { $("#datepicker").datepicker({ dateFormat: "yymmdd", changeMonth: true, changeYear: true }).val() }); </script>

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় শিক্ষা অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয় প্রাথমিক স্তরে। এ স্তরের শিক্ষা যত বেশি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্পন্ন হবে, ততই শক্তিশালী হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানবসম্পদ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হার সন্তোষজনক হলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ, শিক্ষার ফলাফল এবং ঝরে পড়া রোধের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যালয়ভিত্তিক মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।
শিক্ষা ও পুষ্টি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি শিশু যখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসে, তখন তার পক্ষে পাঠে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুর স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধিবিকাশ, শেখার সক্ষমতা এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা থাকলে শিশুরা অধিক উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, ক্লাসে মনোযোগী থাকে এবং শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের অনেক পরিবার এখনও অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের একটি অংশ পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু হলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও হিসেবে কাজ করবে। অভিভাবকরা নিশ্চিত হবেন যে তাঁদের সন্তান বিদ্যালয়ে গিয়ে অন্তত একটি পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা কমবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষার ফলাফল উন্নয়ন এবং অপুষ্টি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, বিদ্যালয়ভিত্তিক খাদ্য কর্মসূচি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের অন্যতম ফলপ্রসূ উপায়। বাংলাদেশেও বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করেছে।
মিড-ডে মিল কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা। একই বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী যখন একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করে, তখন ধনী-গরিবের বিভাজন অনেকাংশে কমে আসে। শিশুরা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বাস্তব শিক্ষা লাভ করে। ফলে বিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টিকর খাদ্য কর্মসূচি এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ডিম, দুধ, ফল, বিস্কুট, খিচুড়ি কিংবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে স্বল্প ব্যয়ে একটি কার্যকর মিড-ডে মিল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকরাও উপকৃত হতে পারেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে মিড-ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একটি সমন্বিত অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব।
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো দক্ষ, সুস্থ ও শিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলা। একটি শিশুর মেধা বিকাশের জন্য যেমন মানসম্মত শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি। তাই মিড-ডে মিলকে শুধুমাত্র খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের একটি সমন্বিত উন্নয়ন কৌশল।
আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি। তাদের সুস্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সে বিবেচনায় দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও সম্প্রসারণ সময়ের অপরিহার্য দাবি। একটি পুষ্ট, সুস্থ ও শিক্ষিত প্রজন্মই পারে উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
লেখক. ফারজানা রহমান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
Leave a Reply