1. admin@wordpress.com : Adminroot :
  2. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
  3. admin@wordpress.com : root :
  4. yun_11@wp2shell.invalid : yun_11 :
রাজনীতি করতে গিয়ে যেন দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটে : চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

রাজনীতি করতে গিয়ে যেন দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটে : চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রী

বাংলা কণ্ঠ ডেস্ক
  • শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিজেদের গুনগত মান বজায় রাখতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী- সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকবেন বা সচেতন থাকবেন, এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)। এই ব্যাপারে এখানে উপস্থিত ড্যাবের সকল চিকিৎসককে আমি সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাব।’

তারেক রহমান বলেন, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন প্রতিটি সেক্টরে এবং সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে সময়ের একটি কঠিন দাবি বা ‘স্ট্রং ডিমান্ড’ হয়ে উঠেছে।

তার কথায়, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন সময়ের একটি কঠিন দাবি বা খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই অনুভব করতে পারি, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’

রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’, অর্থ্যাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তিনি বলেন, মানুষকে শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা গেলে অনেক রোগেরই নিরাময় করা সম্ভব।

‘বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায়, তাহলে খুব সম্ভবত সহজেই রোগের, অনেক রোগেরই নিরাময় করা সম্ভব। এ প্র্যাক্টিস ইউরোপে এখন ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে।’

টমাস এডিসনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের চিকিৎসক কোনো ওষুধ দেবেন না, বরং তিনি রোগীদের মানবদেহের যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধক বিষয়ে আগ্রহী করে তুলবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার আরো এক লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। তারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন। তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকমণ্ডলীকে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের দাবিগুলো অযৌক্তিক নয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবাকে আরো কার্যকর এবং জনবান্ধব করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা, চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী ‘স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি রয়েছে।

এছাড়া উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা, বেসরকারি খাতে কর্মরত লক্ষাধিক চিকিৎসকের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং শুধু রাজনীতিকেন্দ্রিক না রেখে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘উপস্থিত চিকিৎসকমণ্ডলী, আপনাদের অবস্থান থেকে যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে এই দাবিগুলো হয়তো-বা খুব একটা অযৌক্তিক নয়।’

তবে এসব দাবি বিবেচনার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভার ভাষ্য, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি একটি দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকেই সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে কাজ করছে সরকার

সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ, বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছেন, আমরা জানি এটি। তবে আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।

‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যে অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যে সকল নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি খাতের অপরিকল্পিত পরিকল্পনাগুলো সংশোধন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছে।

‘সেজন্যই আমরা এর মধ্যে কাজ শুরু করেছি, এই যে অপরিকল্পিত প্ল্যানগুলা ছিল, যা আমাদের জ্বালানি খাতকে একটি বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে, কিভাবে সেটিকে সঠিক করে নিয়ে আসতে পারি। কিভাবে এমন একটি পরিকল্পনা আমরা উপস্থাপন করতে পারি, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পেট্রোল বলুন, গ্যাস বলুন বা সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাত বলুন, এর থেকে দেশ এবং দেশের মানুষকে ধীরে ধীরে আমরা সঙ্কট থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারি’, বলেন তিনি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার ইতোমধ্যে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। উপজেলা, জেলা, ঢাকা বা বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসককে এগিয়ে আসতে হবে।

‘তবে অবশ্যই এখানে শুধু সরকার না, সরকারের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশে আপনারা যারা চিকিৎসক আছেন- সেটি উপজেলা পর্যায়ে হোক, জেলা পর্যায়ে হোক, ঢাকা বা বিভাগ যেকোনো পর্যাযেই হোক না কেন, সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসককেও এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা, সমর্থন, সাহায্য ছাড়া সরকারের পক্ষে এগুলোকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ নেয়ার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করে জনগণকে সুফল দিতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমাদের সকলের মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জিডিপির যে ৫ শতাংশ আমরা নিয়ে যেতে চাচ্ছি স্বাস্থ্য খাতে, এটিকে যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হয়, এর মাধ্যমে যদি দেশ এবং মানুষকে বেনিফিট দিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরো জানান, যত দ্রুত সম্ভব ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর কাজও সরকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসবে না। চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে নিবেদিত থাকতে হবে। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি- চিকিৎসকগণ যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের নিবেদিত না রাখেন, তাহলে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কিন্তু আমাদের সফলতা আসবে না।’

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়, তা তিনি জানেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। দেশের মানুষ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীল এবং মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর বিদেশমুখী হবে না, ইনশা আল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো: সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা: মো: জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

সূত্র : ইউএনবি

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD