
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর টিফিন শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়। এটি তার শিক্ষা, মনোযোগ, সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ক্ষুধার্ত শিশুর জন্য শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। তাই শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে টিফিনের গুরুত্ব কম দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ সরকার কিছু এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করেছে। এতে বিস্কুট, দুধ, ডিম ও ফল বিতরণ করা হচ্ছে। ফলাফল ইতিবাচক—উপস্থিতি বেড়েছে, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, ঝরে পড়ার হার কমেছে। তবে সব বিদ্যালয় এখনো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
অধিকাংশ শিশুর টিফিনে আজও চিপস, চানাচুর, নুডলস, চকোলেট কিংবা কোমল পানীয় প্রাধান্য পায়। ডিম, দুধ, ফল, সবজি কম থাকে। এমন একঘেয়ে খাদ্য শিশুর মধ্যে অপুষ্টি, দুর্বলতা এবং রোগপ্রবণতা বাড়ায়। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ হ্রাস পায়।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অভিভাবকের সচেতনতার অভাব, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা, শিশুর জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকর্ষণ এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘাটতি—এগুলো মূল কারণ।
অভিভাবকরা সহজ, সুলভ ও পুষ্টিকর টিফিন তৈরি করতে পারেন—ডিম, রুটি, ডাল, সবজি এবং মৌসুমি ফল ব্যবহার করে। শিশুকে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অভ্যস্ত করা জরুরি। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ও ভূমিকা রাখবে। বিদ্যালয়গুলো পুষ্টি রেজিস্টার চালু করার পাশাপাশি টিফিন নীতি প্রণয়ন, পুষ্টি বিষয়ক আলোচনা, পোস্টার প্রদর্শনী, অভিভাবক সমাবেশ এবং ‘পুষ্টিকর টিফিন দিবস’ বা ‘সেরা টিফিন’ প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক।
দীর্ঘমেয়াদে এ কার্যক্রম শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধি, অপুষ্টি হ্রাস, স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। স্থানীয় কৃষিপণ্যের ব্যবহার বাড়বে, অর্থনীতি উপকৃত হবে।
আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা শুধু পরিবার বা বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়, রাষ্ট্র ও সমাজেরও। পুষ্টিকর টিফিন নিশ্চিত করা মানে শিশুর ক্ষুধা মেটানো নয়; এটি তার মেধা, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি।
লেখক. ফারজানা রহমান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply