1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
নাগরিকত্ব ফিরে পেতে আইনী লড়াইয়ে আবারও হেরে গেলেন আইএস বধু শামীমা বেগম - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

নাগরিকত্ব ফিরে পেতে আইনী লড়াইয়ে আবারও হেরে গেলেন আইএস বধু শামীমা বেগম

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন
  • শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে
নাগরিকত্ব ফিরে পেতে আইনী লড়াইয়ে আবারও হেরে গেলেন আইএস বধু শামীমা বেগম

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেতে  আবারও আইনী লড়াইয়ে গেরে গেলেন বাংলাদেশী বংশদ্বোত ব্রিটেনে জন্মনেয়া  আইএস বধূ শামীমা বেগম । ২৪ বছর বয়সী  শামীমাকে আর ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া হবেনা। সমগ্র জীবন তাঁকে থাকতে হবে রিফিউজী হিসেবে সিরিয়া বা অন্য কোন দেশে।

২০১৯ সালে  তৎকালীন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারী পাকিস্থানী বংশদ্ভোত সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার কারণে  জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়ার অপরাধে শামীমার  নাগরিকত্ব  বাতিল করেন। শামীমা বেগম  মাত্র ১৫ বছর বয়সে সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট আইএস-এ যোগ দিতে তার আরো দুই সহপাঠিসহ  ব্রিটেন  ছেড়েছিলেন।  তারা তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। একজন ধর্মান্তরিত জঙ্গিকে বিয়ে করে যৌনদাসি হিসেবে আইএস যোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন।

তবে মিসেস শামীমা বেগম    এই রায়ের বিরুদ্ধে   সুপ্রিম কোর্টে   চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন।  আপিল আদালতের তিন জন বিচারকের মধ্যে সকলেই একমত যে শামীমা ব্রিটেনের জন্য হুমকীস্বরুপ।  তার আইনজীবী ড্যানিয়েল ফার্নার বলেছেন যে তার আইনি দল “যতক্ষণ না সে ন্যায়বিচার না পায় এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে না ফিরতেপারে  ততক্ষণ পর্যন্ত  তারা আইনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।

গতকাল শুক্রবারের রায়ে,  আপিল আদালতের  বিচারপতি ব্যারনেস কার বলেছেন: ” যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে মিসেস বেগমের মামলার সিদ্ধান্ত কঠোর ছিল। এটাও যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে মিসেস বেগম তার নিজের দুর্ভাগ্যের লেখক।“কিন্তু এই আদালতের পক্ষে উভয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত বা অসম্মত হওয়া উচিত নয়।“আমাদের একমাত্র কাজ হল  সিদ্ধান্তটি বেআইনি ছিল কিনা তা মূল্যায়ন করা।

আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে এটি বেআইনি ছিল না এবং আপিল খারিজ হয়ে গেছে।”একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে, বিচারকরা আপিলে ব্যবহৃত তার সমস্ত যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন। গত বছর আগের শুনানিতে হেরে যাওয়ার পর মিসেস বেগমের আইনজীবীরা মামলাটি আপিলের জন্য নিয়ে যান। তারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তার নাগরিকত্ব অপসারণের জন্য হোম অফিসের সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল, কারণ ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তিনি পাচারের সম্ভাব্য শিকার কিনা তা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। হোম অফিসের জন্য স্যার জেমস ইডি কেসি বলেন, মামলার “মূল বৈশিষ্ট্য” ছিল জাতীয় নিরাপত্তা।

তিনি বলেন, “কাউকে মৌলবাদী করা হয়েছে, এবং তাকে কারসাজি করা হয়েছে, এই মূল্যায়নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যে তারা জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে,” তিনি বলেছিলেন। এই রায়টি সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিজয়ের প্রতিনিধিত্ব করে এবং একটি সম্ভাব্য আইনি সংকটকে এড়ায়: যদি এটির সিদ্ধান্তটি প্রত্যাবর্তন করা হয়, তাহলে স্বরাষ্ট্র সচিবদের ভবিষ্যতে কেউ একজন শিকার কিনা এমন প্রশ্নগুলির সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

হোম অফিস বলেছে যে শুক্রবারের রায়ে এটি “সন্তুষ্ট”  যে এটির “প্রাধান্য যুক্তরাজ্যের সুরক্ষা এবং সুরক্ষা বজায় রাখা রয়েছে এবং আমরা এটি করার ক্ষেত্রে যে কোনও সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব”। এখানে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশী বংশদ্বোত শামীমাকে বাংলাদেশও ফিরিয়ে নেবেনা। বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে শামীমা বাংলাদশের কেউ নয়। শামীমার পরিবার ও তার আইনজীবিদের দাবী শামীমা যখন সিরিয়ায় গিয়ে আইএসএ যোগ দেয় তখন সে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল। শামীমার পিতা আহমদ আলী বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন।

শামীমার পিতার বাড়ী বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামে। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীণ এলাকার বাসিন্দা শামীমাকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের একটি উগ্রগোষ্টী মানবতার দোহাই দিয়ে গোপনে চাঁদা সংগ্রহ করে তার পক্ষে আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD