মৃত্যুর মিছিলে ভারী হচ্ছে হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক

বেপরোয়া যানবাহন চলাচলে মৃত্যু মিছিলে দিন দিন ভারী হচ্ছে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়ক। অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। এসব দূর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে বহু যাত্রী। এছাড়া আহত হয়ে অনেক যাত্রীকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুতও¡ পর্যন্ত বরণ করতে হচ্ছে। এত দূর্ঘটনা ও প্রাণহানীর পরও আজ অবধি চোখে পড়ার মতো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এসব দূর্ঘটনা রোধে কার্যকারী কোন প্রদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। গত ৩ মাসে বানিয়াচং-হবিগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেক যাত্রীই মৃত্যুর যন্ত্রনা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। এসব  দুর্ঘটনার জন্য সিএনজি অটোরিক্সা, চান্দের গাড়ীসহ কয়েকটি পরিবহনের অদক্ষ চালকদের দায়ী করেছেন যাত্রীরা। গত কয়েকদিন যাবত বানিয়াচঙ্গের সচেতনসমাজসহহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অদক্ষ চালকদের মাধ্যমে অবৈধ ও ফিটনেস বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা বয়কট করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র জানায়, গত ২০ জুন হবিগঞ্জ-বানিয়াচঙ্গ সড়কের ভাটিপাড়া এলাকায় বেপরোয়া চান্দের গাড়ী সামনের চাকা খুলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ী নিয়ে সড়কের পাশ্ববর্তী খালে পড়ে যান। এতে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের  মেম্বার হাফিজ উদ্দিন (৬০)  ও বানিয়াচং সদরের মাতাপুর তকবাজখানী গ্রামের মোঃ আমির হোসেন (৭০) মারা যান। এ ঘটনায় শিশু মহিলাসহ আরো প্রায় ২০ জন যাত্রী আহত হয়। আহত যাত্রীদের অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ওই সড়কে ১৮ এপ্রিল সিএনজি-ম্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত বানিয়াচং শরীফখানী গ্রামের মোঃ সামসুদ্দিন আহমেদ জুয়েল দীর্ঘ ৭৬ দিন ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছে। তার পরিবার বিপূল অংকের টাকা খরচ করেও তাকে বাচাঁতে পারে নি। গত ৫ জুলাই বুধবার সড়কের দুটি সিএনজি অটোরিক্সা দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭জন আহত হয়। বানিয়াচঙ্গ থেকে বেপরোয়াভাবে সিএনজি অটোরিক্সা চালিয়ে আতুকুড়া এলাকায় আসলে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তন্মধ্যে জুনায়েদ আহমেদ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। একই দিন দুপুরে কালারডোবা এলাকায় বেপরোয়া সিএনজি অটোরিক্সার সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজের প্রভাষক আমিরুল ইসলামসহ বেশ ক’জনযাত্রী আহত হন। গত ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সিএনজি অটোরিক্সা উল্টে  বানিয়াচং সদরের শরীফখানী গ্রামের মহিউদ্দিন কুটিসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। বিগত ২০১৫ সালের শেষের দিকে হবিগনজ-বানিয়াচং রাস্তার কালার ডোবা নামক স্থানে এক ভয়াবহ সিএনজি দূর্ঘটনায় তিনজন যাত্রীর মধ্যে ১জন ঘটনাস্থলেই মরা যান। আহত হন আরো ২জন যাত্রী। তন্মধ্যে একজন যাত্রী ছিলেন ঢাকায় বসবাসকারী বানিয়াচংয়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মোঃ শাহজাহান’র ছোট ভাই। প্রায় দুই মাস দীর্ঘ এবং ব্যায় বহুল চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হলেও আজও সেই ভয়াবহ দূর্ঘটনার স্মৃতি ভূলতে পারেন নি। বিগত ২০১৬ সালে রত্না ব্রীজের অদূরে বেপরোয়াভাবে সিএনজি চালাতে গিয়ে অপর একটি গাড়ীর সাথে ধাক্কা লাগে সিএনজি উল্টে ঘটন্থলেই মারা যান ১জন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএসডি মহিলা মাদ্রাসার ১জন শিক্ষিকা। এত দূর্ঘটনা এত মৃত্যুর পরও থামানো যাচ্ছে না বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো। আর কত প্রাণ গেলে এর লাগাম টেনে ধরবে প্রশাসন। এসব দূর্ঘটনা রোধে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কি করণীয় আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক মোঃ আবু নাঈম  বলেন,  সিএনজি অটোরিক্সার সামনে ড্রাইভার ব্যতীত অন্য কোন যাত্রী পরিবহন করা মোটরযান আইনে সম্পূর্ন দন্ডনীয় অপরাধ। প্রত্যেকটি রাস্তায় যান চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেয়া থাকে, অদক্ষ ড্রাইভার এসবের তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে নিজের মতো করে গাড়ী চালাতে গিয়ে প্রায়শই অনেক গাড়ী দূর্ঘটনায় পতিত হয়। তিনি আরো বলেন, এসব রোধ করতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ীর বৈধ কাগগপত্র নিয়ে রাস্তায় গাড়ী চালাতে হবে। কোন অবস্থাতেই ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ গাড়ী নিয়ে রাস্তায় চলাচল না করার জন্য তিনি মালিক শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। বানিয়াচং-হবিগঞ্জ রোডে ফিটনেসবিহীন গাড়ীসহ অবৈধ চলাচলকারী গাড়ীর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ বিআরটিএর পক্ষ থেকে ঘন ঘন অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।

মখলিছ মিয়া,বানিয়াচং হবগিঞ্জ

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *