1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে বিএনপি - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
January 27, 2023, 2:05 pm

সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে বিএনপি

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন থেকে
  • বুধবার, মে ২৫, ২০২২
সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে বিএনপি

শেখ হাসিনা ব্রিটেন সফরে আসলে আর সুস্থ অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেননা। যে কোন মূল্যে তাঁকে প্রতিহত করা হবে। আজ থেকে দেশে বিদেশে আমাদের সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হল। আগামী সপ্তাহ থেকে চমক দেখবেন। গতকাল ২৪মে মঙ্গলবার দুপুরে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সেক্রেটারী কয়ছর এম আহমদ একথা বলেন। তিনি বলেন এই সরকারের পতন নাহওয়া পর্য়ন্ত বিএনপি নেতা কর্মীরা ঘরে ফিরবেনা।  সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি পন্থি আইনজীবি  সলিসিটর একরাম মজুমদার বলেন আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করব।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপি‘র সভাপতি এম এ মালেক, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব, তাজুল ইসলাম, সলিসিটর একরাম মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খসরুজ্জামান খসরু, দপ্তর সম্পাদক ড. এম মুজিবুর রহমান, সহদপ্তর সম্পাদক সেলিম আহমদ ।

লিখিত বক্তব্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেশি বিদেশী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে অবিলম্বে শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ চিকিৎসার দাবি জানান যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় রাষ্ট্রীয় স্বার্থে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ পরীক্ষার পদক্ষেপ না নিলে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও লিখিতভাবে আবেদন জানানো হবে।

তাদের ভাষায় ‘‘বেগম জিয়াকে মাদার অফ ডেমোক্রেসি‘‘ বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার নির্দেশ এবং হুমকি দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৪ মে) লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি দলীয় হলেও রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ পরীক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে. তবে শুধুমাত্র দেশের চিকিৎসক দিয়ে শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ পরীক্ষার উদ্যোগ মেনে নেয়া হবেনা। কারণ, শুধুমাত্র দেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হলে চিকিৎসকগন নিজেরাই গুম-খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ সম্পর্কে সঠিক রিপোর্ট প্রকাশ করার সাহস করবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনার লাগামহীন কথাবার্তা, বেপরোয়া আচরণ আর পাগলামির কারণে তার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা ‘পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন’ .

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, দেশে সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশে চলছে গুম-খুন-অপহরণ। এর মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার লোভে নিজেকে একজন রক্ত পিপাসু হিসেবে প্রমাণ করেছেন। অপরদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতিদিন অপপ্রচার আর মিথ্যাচার চালিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তিনি একজন ‘প্যাথোলজিক্যাল লায়ার’।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও মাতৃভূমির যে কোনো শুভ সংবাদে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেমন আনন্দ অনুভব করে অপরদিকে অশুভ সংবাদে আতংকিত হয়। কিছু আওয়ামীগার ছাড়া দেশের অধিকাংশ মানুষের পাশাপাশি এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আতঙ্কিত।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারকে মাফিয়া আখ্যায়িত করে বলা হয়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি দলীয় অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরাসরি হত্যার নির্দেশ এবং হুমকি দিয়েছেন সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে তিনি নোবেলজয়ী ড. ইউনুসকে নিয়েও অসম্মানজনক উক্তি করেছেন। সুতরাং, তাদের ভাষায় দেশনেত্রী সম্পর্কে শেখ হাসিনার এমন হুমকি ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দেয়া যায়না।

কারণ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার নির্দেশেই খোদ রাজধানী ঢাকার রাজপথে আওয়ামী খুনি চক্র প্রকাশ্যে লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ খুন করে লাশের উপর উল্লাস করেছে। শেখ হাসিনার নির্দেশেই কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে।শেখ হাসিনার নির্দেশেই গত একযুগে দেশে শত শত মানুষকে গুম খুন অপহরণ করা হয়েছে। এবার শেখ হাসিনা তার দলের সন্ত্রাসীদেরকে খালেদা জিয়াকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি এখন আর শেখ হাসিনার পাগলামির পর্যায়ে নেই.  তাদের ভাষায় মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি খালেদা জিয়াকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপি শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই  তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি দিলেও দেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় এর সঠিক বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থা এখন আওয়ামী সালিশ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ মনে করে, বিচারপতিরাও এখন শেখ হাসিনার ভয়ে আতংকিত থাকেন। ফলে বর্তমানে আওয়ামী দলীয় বিচার ব্যবস্থায় বিচারের নামে চলছে অবিচার। সুতরাং ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে অবশ্যই শেখ হাসিনার বিচার করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, শেখ হাসিনার পাগলামির ইতিহাস দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণেও রয়েছে। ২০০০ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড লেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ২০১৪ সালে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, শেখ হাসিনা ‘হিউব্রিস সিনড্রোমে’ আক্রান্ত। জনগণ আশা করেছিল, সময়ের সাথে সাথে হয়তো শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্যে’র উন্নতি ঘটবে। কিন্তু মনে হচ্ছে, যে কোনো সময়ে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনা ক্রমেই ‘মানসিক বিকারগ্রস্থ’ হয়ে পড়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএরপি নেত্রী  বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার নির্দেশ দেয়ায় আবারো প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্যে’র চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ হাসিনার ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ চিকিৎসার দাবিটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই দাবিটি জানানো হয়েছে। কারণ শেখ হাসিনার মতো একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তির হাতে দেশের আঠারো কোটি মানুষ জিম্মি থাকতে পারেনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মাফিয়া চক্রের কবলে পড়ে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। দেশের স্বার্থের পক্ষে কেউ কথা বললে তাকে আবরারের মতো পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে কিংবা সীমান্তের ওপারে ফেলে রেখে আসা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন  বিএনপি নেতা (লন্ডনে পলাতক একাধিক মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী )  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান  তারেক রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিনাভোটে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন শেখ হাসিনা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখতে গিয়ে বিএনপি এবং বিরোধী দল ও মতের শত শত মানুষকে গুম-খুন অপহরণ করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি মাফিয়া চক্র গত একযুগ ধরে দেশে একটি সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শেখ হাসিনার ক্ষমতালিপ্সার কারণে বর্তমানে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারটির পরিচয়’ গভর্নমেন্ট অফ দ্যা মাফিয়া, বাই দ্যা মাফিয়া, ফর দ্যা মাফিয়া’।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ সরকারকে মাফিয়া আখ্যায়িত করে  আরো বলেন, মাফিয়া চক্র ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে থেকে ১১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি পাচার করে দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে দেশে পাঠায় আর শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য এবং তার দলের দুর্নীতিবাজরা সেই টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়। আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীরা দেশের ব্যাংকগুলোকে তাদের মানিব্যাগে পরিণত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে টেন্ডারবাজ আখ্যায়িত করে বলা হয়  ক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনা তার টেন্ডারবাজ পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিজের আইটি উপদেষ্টা বানিয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় আইটি উপদেষ্টা পদে থাকাকালেই ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে আটশো দশ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এই টাকা কিভাবে লোপাট হলো টেন্ডারবাজ আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সেই তথ্য এখনো জনগণকে জানায়নি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতারা বলেন, শেখ হাসিনার মতো এমন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক এর আগেও অনেক দেশে অনেক রাষ্ট্রে এসেছে। তবে অতীতে হিটলার -মুসোলিনির মতো স্বৈরশাসকরাও মানুষের উপর নির্মম দমন পীড়ন চালিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারেনি। শেখ হাসিনাও পারবেনা। সকল স্বৈরাচারের মতো অচিরেই শেখ হাসিনাকেও জনগণের কাছে পরাজয় বরণ করতে হবে। গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের ভয় অন্যখানে। একদিকে শেখ হাসিনা ইতিহাসের একজন নিকৃষ্টতম স্বৈরাচার অপরদিকে তিনি এখন ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ সমস্যায় আক্রান্ত। তার কথাবার্তা, কাজ কর্ম, আচার-আচরণে পাগলামির প্রভাব সুস্পষ্ট।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD