1. admin@wordpress.com : Adminroot :
  2. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
  3. admin@wordpress.com : root :
পৃথিবীর অনেক দেশের নজর এভারকেয়ারে - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীর অনেক দেশের নজর এভারকেয়ারে

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ
  • শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীর অনেক দেশের নজর এভারকেয়ারে

এম এ মজিদ : ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, বৃটেন, মধ্য প্রাচ্যের দেশ, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী কুটনৈতিক মিশন, সর্বোপুরি বাংলা ভাষাবাসী কোটি কোটি মানুষের অপলক দৃষ্টি এখন ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত এভার কেয়ার হাসপাতালে। পূর্বে এর নাম ছিল এ্যাপোলো হসপিটাল ঢাকা। সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

আওয়ামীলীগ ছাড়া বাংলাদেশের জন্য চির বৈরী প্রতিম দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোজ খবর নিয়েছেন, সুস্থতা কামনা করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ার পার্সন খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতা কামনা করে চিঠি পাঠিয়েছেন। চীন তার দেশের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠিয়েছে খালেদা জিয়ার জন্য।

বৃটেন থেকে এসেছেন আরেকদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল, যারা বৃটেনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসায় অংশ নিয়েছিলেন। শুধু বাংলাদেশী নয় বাংলা ভাষাবাসী কোটি কোটি মানুষের নজর এখন এভারকেয়ারে, বেগম জিয়ার দিকে। একটি সুখকর সংবাদ শুনার অধীর আগ্রহে দিনরাত একাকার করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার কোনো সুযোগ না থাকা স্বত্বেও হাজার হাজার নেতাকর্মী উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিনরাত পার করছেন এভার কেয়ারের সামনে। অস্্রুসিক্ত নয়নে দোয়া করছেন সব ধর্মের মানুষ।

আওয়ামীলীগ ছাড়া বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এভার কেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খবর নিতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কল্পনাতীত সম্মান দেখাচ্ছে মহিয়সী এই নারী নেত্রীকে। বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষনা করে প্রজ্ঞাপন জারী, তার নিরাপত্তায় এসএসএফ নিয়োগ করা, তিন বাহিনীর প্রধানের এভার কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোজ খবর নেয়া, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সংকটকালীন সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভার আয়োজন করা, সেনা ও বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার এভারকেয়ার হাসপাতালের পাশে নিয়োজিত রাখা, সরকারের তরফ থেকে প্রায় প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে প্রেস নোট দেয়া ইত্যাদি প্রমান করে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের হৃদপিন্ড।

১৯৪৫ সালে জন্ম নেয়া বেগম জিয়ার বয়স এখন ৮০ বছর। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির হাল ধরেন তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে। বেগম জিয়া হয়তো আর দশজন রাষ্ট্র প্রধানের স্ত্রী হিসাবেই থাকতেন যদি ১৯৮১ সালে সেনা বাহিনীর বিপৎগামী কয়েকজন সদস্যের হাতে মর্মান্তিকভাবে জিয়াউর রহমান শহীদ না হতেন। ১৯৮৪ সালে বিএনপির হাল ধরেই তিনি স্বৈর শাসক এরশাদ পতনের আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা এরশাদের সাথে আতাত করলেও বেগম জিয়া আতাত করেননি। ১৯৯০ সালের এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বেগম জিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯১ সালেই গনতান্ত্রিক পন্থায় প্রথম নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে ১২টি আসনের জন্য বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি।

জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করে। বেগম খালেদা জিয়া হন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের ২য় মুসলিম মহিলা প্রধান মন্ত্রী। এর আগে বেনজির ভুট্টো বিশ্বের প্রথম মহিলা মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের পর কয়েকদিনের জন্য খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবারও খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৬ সাল থেকে ২০০৭ সালের শেষ পর্যন্ত সেনা বাহিনী বাংলাদেশের রাজনীতির কী নোট পরিচালনা করে। ওই সময়ে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা কারাভোগ করেন।

২০০৭ সালে সেনা শাসিত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জন্য বিপদ জনক ব্যক্তি হিসাবে ঘোষনা করে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে নয়। ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনা একনায়ক তন্ত্র কায়েম করেন। এই সময়ে এহেন কোনো নির্যাতন নেই যা খালেদা জিয়ার উপর করা হয়নি।

এক কাপড়ে সেনা নিবাসের মঈনুল হোসেন রোডের বাড়ি থেকে বেগম জিয়াকে উচ্ছেদ, বাসার সামনে বালুর ট্রাক দাড় করিয়ে রাখা, শেষ পর্যন্ত নির্জন কারাগারে পাঠানো, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে শেখ হাসিনার বেসামাল কথা বলা, তারেক রহমানকে নির্বাসনে পাঠানো, আরাফাত রহমানকে বাংলাদেশে আসতে না দেয়া, (বিদেশের মাটিতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন), এব্রুতেব্রুভাবে খুচিয়েখাচিয়ে বেগম জিয়া সম্পর্কে শেখ হাসিনার তীর্যক বাক্যবান ছিল পীড়া দায়ক। সময়ের ব্যবধানে বেগম জিয়া আজ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মানের নারী, কোটি মানুষের দোয়ায় আছেন তিনি।

এম এ মজিদ
আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
হবিগঞ্জ ডিসেম্বর ২০২৫
০১৭১১-৭৮২২৩২

 

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD