<!DOCTYPE html> <html> <?php global $themesbazar; ?> <head><meta http-equiv="Content-Type" content="text/html; charset=utf-8"> <meta name="viewport" content="width=device-width, initial-scale=1"> <link rel="profile" href="http://themesbazar.com"> <title><?php wp_title(''); ?></title> <link rel="icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <link rel="shortcut icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <?php $image = wp_get_attachment_image_src( get_post_thumbnail_id( $post->ID ), 'single-thumbnail' ); ?> <meta property="og:title" content="<?php the_title(); ?>" /> <meta property="og:description" content="" /> <meta property="og:image" content="<?php echo $image[0]; ?>" /> <meta property="og:video" content="" /> <meta property="og:video:width" content="560" /> <meta property="og:video:height" content="340" /> <meta property="og:video:type" content="application/x-shockwave-flash" /> <!-- head section --> <!-- skin --> <link rel="stylesheet" href="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/skin/skin.css"> <!-- CDNBye hls.js --> <script src="https://cdn.jsdelivr.net/npm/cdnbye@latest/dist/hls.light.min.js"></script> <!-- flowplayer --> <script src="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/flowplayer.min.js"></script> <?php wp_head();?> <?php include('css/dynamic-css.php'); ?> </head> <body> <!------------- Archive start ---------------> <script src="https://code.jquery.com/jquery-1.12.4.js"></script> <script src="https://code.jquery.com/ui/1.12.1/jquery-ui.js"></script> <script type="text/javascript"> $(function() { $("#datepicker").datepicker({ dateFormat: "yymmdd", changeMonth: true, changeYear: true }).val() }); </script>

বাংলা কণ্ঠ ডেস্কঃ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে চাষ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। এই আমের প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই আম পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
যেখানে দেশের বাজারে প্রচলিত আমের দাম প্রতি কেজি জাতভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকাতেই পাওয়া যায়।
দামি এই আমটি বাংলাদেশের কোনো জাত নয়। আমটি জাপানি প্রজাতির বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তবে এটি বিভিন্ন দেশে চাষ হচ্ছে।
জাপানি ভাষায় আমটিকে বলা হয় মিয়াজাকি। তবে বিশ্ববাজারে এটি রেড ম্যাঙ্গো বা এগ অব দ্য সান নামেও পরিচিত। বাংলায় এই আমটি পরিচিতি পেয়েছে সূর্যডিম নামে।
আমটি সাধারণ আমের চাইতে বড় ও লম্বা, স্বাদে মিষ্টি এবং আমের বাইরের আবরণ দেখতে গাঢ় লাল অথবা লাল-বেগুনির মিশ্রণে একটি রঙের। প্রতিটি আমের ওজন ৩৫০ থেকে ৪৫০ গ্রামের মতো বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
সে হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে একেকটি আমের দামই পড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মূলত চাহিদা মোতাবেক যোগান কম থাকা, মিষ্ট স্বাদ, ভিন্ন রঙ এবং চাষপদ্ধতির কারণে আমটির দাম এত বেশি।
দামি এই আমটি চাষ করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন খাগড়াছড়ির কৃষক হ্ল্যাশিংমং চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে কৃষিকাজকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে মহলছড়ি উপজেলা। ওই উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় ১২ শ’ ফুট উঁচুতে ৩৫ একর জায়গাজুড়ে নিজ উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন হরেক রকম ফলের বাগান। নাম দিয়েছেন ‘ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম’। সেই বাগানের একটি অংশেই চাষ করছেন সূর্যডিম আম।
২০১৭ সালে তিনি প্রথম ভারত থেকে এই আমের ১০ থেকে ১৫টি চারা কিনে নিজ বাগানে রোপণ করেন। দুই বছরের গাছ বড় হয়ে ওঠে এবং ২০১৯ সাল থেকে তিনি আম তোলা শুরু করেছেন।
তিনি জানান, মা গাছ থেকে চারা রোপণ করে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন তার বাগানে সূর্যডিমের ১২০টির মতো গাছ রয়েছে। যেগুলোর উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুটের মতো।
চারাগুলো যত্ন করে পালন করায় এরমধ্যে প্রায় ৫০টি গাছে তিন চার বছর ধরে ফলন হচ্ছে, যা থেকে প্রতি বছর ৩ শ’ থেকে ৪ শ’ কেজি আম হয় বলে জানিয়েছেন হ্ল্যাশিংমং চৌধুরী।
যদিও বিরূপ আবহাওয়া এবং পানি স্বল্পতার কারণে এই আম চাষে তাকে বেশ বেগ পেতে হয় বলে তিনি জানান।
সূর্যডিম আম সাধারণত মে মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখে পাকা শুরু হয় এবং জুনের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া যায়।
চলতি বছর একটি লম্বা সময় খরা মৌসুম থাকায় এবার আম চলে এসেছে সময়ের আগেই।
তিনি বলেন, এই আম চাষে নিতে হয় বিশেষ যত্ন। পরিমিত আলো, পানি, ছায়া সরবরাহের পাশাপাশি, প্রতিটি আম প্যাকেট দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।
আম তোলার পর গরমের কারণে সেগুলো বেশিক্ষণ নিজের কাছে রাখতে পারেন না। দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়।
এখনো এই আমের ক্রেতা খুব হাতে গোনা কিছু সৌখিন আমপ্রিয় মানুষ বলে জানা গেছে।
হ্ল্যাশিংমং চৌধুরী বলেন, কিছু আম উপহার হিসেবে দিয়ে দেন এবং কিছু আম অনলাইনের বিভিন্ন পেজে বিক্রি করেন।
প্রতি কেজি আম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করলেও এই আম খুচরা বাজারে গিয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
হ্ল্যাশিংমং তার বাগানে প্রায় ৬০ জাতের আম একইসাথে ড্রাগনফল, রামবুটান, থাইলংগান, মালটাসহ প্রায় ১৫০ জাতের প্রচলিত-অপ্রচলিত-বিলুপ্ত জাতের ফল চাষ করে আসছেন। তবে পাহাড়ে ‘সূর্যডিম’ আমের চাষ এবারই প্রথম।
সরকারিভাবেও পুরষ্কৃত কৃষক হ্ল্যাশিংমং-এর পরিকল্পনা- এই আমের ফলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে একে একটি রফতানিযোগ্য পণ্যে পরিণত করা।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই ফলের আবাদ সারা বাংলাদেশে হোক। আমি কৃষকদের বিনা পয়সায় বা নামমাত্র দামে চারা দিচ্ছি। সবাই যদি চাষ করে এই আমের ফলন বাড়ায়, তাহলেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব না।
তবে তার বাগানে যে আমের ফলন হচ্ছে সেটা বিশ্বমানের কি-না, এর স্বাদ জাপানের উৎপাদিত মিয়াজাকি আমের মতো কি-না, সেটা তিনি বিশেষজ্ঞদের কাছে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন।
সেখান থেকে ফলাফল এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা তিনি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মিয়াজাকির ফলনের জন্য উপযোগী। এই আম আরো কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফলানো হচ্ছে।
এই আমের বাণিজ্যিক ফলন হলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে পাহাড়ি এলাকার প্রচলিত আম আম্রপালির ফলন ও বাণিজ্যিক প্রসারের দিকেই এখন বেশি মনোযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম।
সূত্র : বিবিস
Leave a Reply