1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একক প্রার্থী শেফু বিজয়ী  - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১০:৩০ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একক প্রার্থী শেফু বিজয়ী 

উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
  • বুধবার, ২২ মে, ২০২৪
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একক প্রার্থী শেফু বিজয়ী 
নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা   আওয়ামিলীগের  হেভিওয়েটদের  ৪ প্রার্থীকে হারিয়ে টক্কর দিয়ে  বিজয়ী হয়েছেন  বিএনপির একক প্রার্থী সদ্য বহিস্কৃত নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান শেফু। নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল পদে নতুনরাই  চমক দেখিয়েছেন।
আওয়ামিলীগের  হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থীদের হারিয়ে চেয়ারম্যান পদে  বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মুজিবুর রহমান শেফু। সব শঙ্কা কাটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। ২১ মে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ঐদিন  রাত পৌনে ১ টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কক্ষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট ৫  প্রার্থীদের হারিয়ে টক্কর দিয়ে বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নিয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত ১ম যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী সেফু। খোজ নিয়ে জানাযায় আওয়ামীলীগের আধিপত্য বিস্তারের জন্য এবং দলীয় কোন্দলে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে কেউ কাউকে ছাড় না দেওয়ায় এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানাযায়। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা
বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম,জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ,কে এম নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল,সাংগঠনিক সম্পাদক এডঃ সুলতান মাহমুদ,নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ বোরহান উদ্দিন।
আওয়ামী লীগের সাবেক ও বর্তমান এই ৫ হেভিওয়েট প্রার্থীকে টপকিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী প্রার্থী মুজিবুর রহমান শেফু (চিংড়ি মাছ) পেয়েছেন ২৫১৫৯ ভোট।  তিনি গত ১৫ বছর ধরে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য  বিএনপি রাজনীতির পাশাপাশি তৃনমুল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের সাথে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। ২০২৪ সালে ৪ র্থ  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রায় ৩২ হাজার ভোট পেয়ে বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডঃ আলমগীর চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।
২০২৮ সালের ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্ত  হলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। এবাবে ২০২৪ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে এসে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিস্কৃত হবার পরেও বিজয়ী হন।  আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মাঝে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী  যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় এবং উপজেলা পরিষদ ভািস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করায় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হিসাবে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকার পরেও নির্বাচন থেকে সরে দাড়াননি। তিনি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ২১ হাজার ৭ মত ৫১ ভোট পেয়ে সামান্য ভোটে হরে যান।
,জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ,কে এম নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল এর বাড়ী নবীগঞ্জ উপজেলার ১২ নং কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরানগাও গ্রামে।  তিনি হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।  পরে দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর দেশে এসে জনপ্রতিনিধত্ব করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে নবীগঞ্জ উপজেলায় জনসংযোগ শুরু করেন বিগত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটিতে প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত  হন।
তার কিছুদিন পরেই তার ছোট ভাই বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলনে কার্যকরী  কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাই নিজ ইউনিয়নের একক আধিপত্যসহ জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী থাকায় দলের লক্ধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়াননি।  তিনি গত ২১ মে নির্বাচনে  দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ১৭৯৪২ ভোট, পেয়ে ৪র্থ স্থান অর্জন করেন।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক এড সুরতান মাহমুদ ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে শুরু করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে জেলা বারের সদস্য হয়ে আইন পেশার পাশাপাশি জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত নবীগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। বিগত দিনে তার পিতা প্রয়াত এডঃ আব্দুল মোছাব্বির নবীগঞ্জ বাহুবল আসনের সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তাই তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী থাকায় দলের একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যা পদে মোটর সাইকেল প্রতিকে নির্বাচন করে ২০ হাজার ৫ শত ৬৩ ভোট পেযে ৩ য় স্থান অর্জন করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও ১১ নং গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান  ইমদাদুর রহমান মুকুল হেলিকপ্টার প্রতিক নিয়ে ১৭০৪৭ ভোট, পেয়ে ৫ম স্থান অর্জন করেন।
গজনাইপুর,দেবপাড়া,পানিউমদা ৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দিনারপুর পরগনায় এককভাবে ভোট পাওয়ার সমীকরন নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। এছাড়া ছাত্র রাজনীতিত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু নবীগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়নে কাস্টিং ভোটের হার ৩০/৩৫% হলেও পরগনায় ৫০/৬০% ভোট কাস্ট হলেও তিনি জয়ের লক্ষ্যে পৌছতে পারেননি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপজেলা নির্বাচন করে জয়ী হতে না পেরে একুল ওকুল দুকুলই গেলো।
হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের  সাবেক সাধারন সম্পাদক  বোরহান উদ্দিন চৌধুরী আনারস প্রতীকে নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে  ৩৩৭৬, ভোট পান।  দীর্গদবন রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।
অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শাহ আবুল খায়ের কৈ মাছ প্রতীকে ১৯৫০ ভোট, পান। দীর্ঘদিন যাবত রাজনীতির সাথে এবং উপজেলায় শালিস বিচারের সাথে যুক্ত থাকায় তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবদী ছিলন। অপর লন্ডন প্রবাসী এবং ১২ ন কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীমতপুর গ্রামের
শেখ মোস্তফা কামাল কাপ পিরিচ প্রতীকে ১৯০৫ ভোট। পান।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে দীর্ঘদবন আওয়ামী লীগের  রাজনীতির সাথে জড়িত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সস্পাদক ও নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক
সাইফুল জাহান চৌধুরী (তালা ) প্রতিক নিয়ে
৩৯৭৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাকে পরাজিত করার বেড়াজাল ছিন্ন করে  বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গতি গোবিন্দ দাশ (মাইক) প্রতীকে মাত্র   ১৮০৩৮, ভোট পেলেও বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
 এছাড়া
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে   শেখ ছইফা রহমান কাকলি (ফুটবল) প্রতিক নিয়ে  ৮৬৬১৫ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে উপজেলায় সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হন এবং বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম (হাঁস) মাত্র  ২৩৫৪৪ ভোট পান।
উল্লেখ্য নবীগঞ্জ  উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৭ শত ১৩ জন, এর মধ্যে ভোট প্রয়োগ হয়েছে ১ লক্ষ ১৪হাজার ৫ শত ৮২ ভোট প্রদানের শতকরা হার ৪০.৫৩ % ভোট প্রয়োগ হয় ।
 নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসাবে পরিচিত নবীগঞ্জে দলীয় প্রার্থীদের এমন পরাজয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ বলেন, দলের বর্তমান ও সাবেক  নেতারা কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে ৫ জর প্রার্থী হওয়ার কানে ভোটও এলাকা ভিত্তিক ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD