সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২২ জুলাই পাঁচ সদস্যর এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

“কোনো ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, আইনের অপব্যবহার বা আইনের বাইরে কিছু হয়েছে কিনা- সেটা উনারা দেখবেন।”

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ কমিটিতে রয়েছেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন’ অভিযোগ করে গত ৭ জুন মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই তারিক সালমন আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। একই বিচারক দুই ঘণ্টা পর ইউএনও তারিকের জামিন মঞ্জুর করেন।

তারিক সালমন জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশুদিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিশুর আঁকা দুটি ছবি ব্যবহার করে স্বাধীনতা দিবসের  আমন্ত্রণপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।

“এর উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি শিশুদের ভালবাসা সৃষ্টি এবং ছবি আঁকার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলা।”

আদালত প্রাঙ্গনে ইউএনও তারিককে পুলিশ ধরে নেওয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে তার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ছবিতে বিকৃত করার মতো কিছু তারা দেখেননি বরং এটি একটি ‘সুন্দর কাজ’, রীতিমত ‘পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য’।

এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাজুকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শাও নোটিস পাঠানোর কথা জানানো হয়। তারিক সালমনকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকেও শনিবার সরিয়ে দেওয়া হয়।

সোরা দেশে সমালোচনা ও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর রোববার বরিশালের হাকিম আদালতে হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

তিনি বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে’ এ ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুর ছবিটি এক শিশুর আঁকা এ কথা তার জানা ছিল না।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার আগে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সাজুর মামলার ক্ষেত্রে তা ছিল না বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

মামলা করার সময় সাজু আদালতে বলেছিলেন, তার কাছে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন আছে এবং তা তিনি পরে জমা দেবেন।

কিন্তু তিনি তা না দেওয়ায় রোববার মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানিতে বিচারক তার ব্যাখ্যা চান। জবাবে সাজু বলেন, সেই কাগজপত্র তার জমা দেওয়া ‘হয়ে ওঠেনি’।

ইউএনও তারিক সালমন বলে আসছেন, ঘটনার দিন প্রথমে জামিন না মঞ্জুর করার পর তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা কোর্ট হাজতে আটক রাখ হয়েছিল। কিন্তু বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মোহাম্মদ আলী হোসাইন ওই মামলার নথিসহ যে ব্যাখ্যা রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পাঠিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে, ইউএনওর জামিন আবেদন একটিবারের জন্যও নামঞ্জুর হয়নি।

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ ওঠার পর বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকেও তারিক সালমনকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সোমবার বলেন, “আমরা ওটা নিষ্পত্তি করে দিয়েছি। ওটাকে নথিজাত বলে। আমরা অ্যাকশন নেওয়ার মত কিছু দেখিনি।”

ঘটনা এ পর্যায়ে আসা পর্যন্ত মাঠ প্রশাসসেনর কোনো গাফিলতি আছে কিনা- এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমরা কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করব।তবে ইনিশিয়ালি যাদেরকে আমরা দোষী মনে করছি বা সরকার মনে করবে, তাদের ব্যাপারে হয়ত অ্যাকশনে যেতে পারে। এটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, জনপ্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here