
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দেশ ও জাতি নয়, পুরো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলার কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা পরাধীনতা মেনে নেয়নি বলেই স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ও প্রশিক্ষিত পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন। সমাজের ও রাষ্ট্রের অসঙ্গতি অনুধাবন ও চিহ্নিত করে এবং সব নির্যাতন, নিপীড়ন, অপশাসন, দুঃশাসন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই হল প্রকৃত মানুষের বৈশিষ্ট্য। সে হিসেবে মুক্তিযোদ্ধারা শুধু দেশ ও জাতির নয়, পুরো পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের এদিনে নতুন আত্মপরিচয় নিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও নতুন পতাকা পেয়েছিলাম। দীর্ঘ ২৪ বছরের অপশাসন ও দুঃশাসনের শেকল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে আমরা এদেশের মালিকানা অর্জন করেছিলাম। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পরাধীনতার অন্ধকার থেকে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে হাল ধরতে হবে৷ এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি এ জাতির মৌলিক ও মানবিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তরুণ প্রজন্ম ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশ হবে বৈষম্যমুক্ত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে শক্তিশালী একটি দেশ।’
এ সময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ ও মো: আশরাফুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সন্দীপ কুমার সিংহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ, সরকারি- বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply