<!DOCTYPE html> <html> <?php global $themesbazar; ?> <head><meta http-equiv="Content-Type" content="text/html; charset=utf-8"> <meta name="viewport" content="width=device-width, initial-scale=1"> <link rel="profile" href="http://themesbazar.com"> <title><?php wp_title(''); ?></title> <link rel="icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <link rel="shortcut icon" href="<?php echo $themesbazar['favicon']['url']?>" type="image/x-icon" /> <?php $image = wp_get_attachment_image_src( get_post_thumbnail_id( $post->ID ), 'single-thumbnail' ); ?> <meta property="og:title" content="<?php the_title(); ?>" /> <meta property="og:description" content="" /> <meta property="og:image" content="<?php echo $image[0]; ?>" /> <meta property="og:video" content="" /> <meta property="og:video:width" content="560" /> <meta property="og:video:height" content="340" /> <meta property="og:video:type" content="application/x-shockwave-flash" /> <!-- head section --> <!-- skin --> <link rel="stylesheet" href="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/skin/skin.css"> <!-- CDNBye hls.js --> <script src="https://cdn.jsdelivr.net/npm/cdnbye@latest/dist/hls.light.min.js"></script> <!-- flowplayer --> <script src="https://releases.flowplayer.org/7.2.6/flowplayer.min.js"></script> <?php wp_head();?> <?php include('css/dynamic-css.php'); ?> </head> <body> <!------------- Archive start ---------------> <script src="https://code.jquery.com/jquery-1.12.4.js"></script> <script src="https://code.jquery.com/ui/1.12.1/jquery-ui.js"></script> <script type="text/javascript"> $(function() { $("#datepicker").datepicker({ dateFormat: "yymmdd", changeMonth: true, changeYear: true }).val() }); </script>

নির্বাসন বা কারাবাস কোনো নেতার রাজনীতির শেষ নয়। যুগে যুগে ইতিহাসে এটিই প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের বর্ণাঢ্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে তা আবারো প্রমাণিত হলো। এমন কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মধ্যে ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি, রাশিয়ার ভ্লাদিমির লেনিন, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা ইতিহাসে নজির হয়ে আছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশের মাটিতে তারেক রহমানকে লাখ লাখ মানুষের জনসমুদ্রে অকৃত্রিম ভালোবাসায় বরণ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে আখ্যা পেল। এই দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে থেকেও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ছিল তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
সেখানে বসেই দলের পক্ষ থেকে দেশের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। তার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছিল প্রাণচাঞ্চল্য। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তথা এক-এগারোয় জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতারের পর তারেক রহমান নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। নির্যাতন, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা নিয়ে প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
২৫ ডিসেম্বর তার প্রত্যাবর্তনে দেশের ইতিহাসে দিনটি স্থান করে নিল। তার ফেরার মূহূর্তে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান একটি ছবি যুক্ত করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!’
এক-এগারোর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মইনুল রোডের বাসা থেকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। ওই বছর ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিপীড়নের বর্ণনা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
রিমান্ড, নির্যাতন, ৫৫৪ দিন বা ১৮ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। লন্ডনে যাওয়ার পরও তার ওপর থামেনি মামলার খড়গ। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৩টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলা হয়। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদ সাজা দেয়া হয় তাকে। এসব মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্ত হন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার জন্মভূমিতে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে তারেক রহমান সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাদের সাথে আলিঙ্গন ও কুশল বিনিময় করেন।
এছাড়া বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে তারেক রহমানকে বরণ করে নেন তার শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে খালি জায়গায় খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে একমুটো মাটি হাতে নেন তারেক রহমান।
এরপর বুলেট ফ্রুফ গাড়ি বাদ দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত লাল সবুজ রঙের একটি বাসে চড়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে তার জন্য আয়োজন করা সংবর্ধনা মঞ্চের দিকে রওনা হন। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাতে। পুরো রাস্তায় তিনি বাসটির সামনে থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাসে ফেটে পড়েন। নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে রাখে।
সংবর্ধনায় ১৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তার বক্তব্যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে বলে ফেসবুক পেজে আগণিত মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন।
এবার দেখে নেয়া যাক কয়েকজন বিশ্বনেতার ইতিহাস :
আয়াতুল্লাহ খোমেনি : ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির স্বৈরশাসনের বিরোধিতার কারণে ১৯৬৪ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হন আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি। তাকে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকতে হয়। তিনি প্রথমে তুরস্ক, এরপর ইরাক ও ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন কাটালেও সেখান থেকেই তিনি বিপ্লবী আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৭৯ সালে শাহ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ খোমেনি ইরানে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ভ্লাদিমির লেনিন : রুশ জার শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে লেনিন বারবার গ্রেফতার ও নির্বাসনের শিকার হন। তার প্রথম নির্বাসন নিজ দেশে ১৮৯৭ থেকে ১৯০০ সাল। এরপর সাইবেরিয়া ও ইউরোপে নির্বাসিত অবস্থায় তিনি বলশেভিক মতাদর্শ গড়ে তোলেন। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় ফিরে অক্টোবরে বিপ্লব সংঘটিত করেন। লেনিনের নির্বাসনকালেই তার রাজনৈতিক চিন্তা পরিপক্ক হয় এবং রুশ বিপ্লবের সাফল্যে ভূমিকা রাখে।
নেলসন ম্যান্ডেলা : বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের কারণে ১৯৬৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান নেলসন ম্যান্ডেলা। টানা ২৭ বছর কারাগারে থাকার পর ১৯৯০ সালে মুক্তি পান। পরে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটান এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কারাগার ম্যান্ডেলার জীবনকে ঘৃণার বদলে ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার আদর্শে গড়ে তোলে।
সূত্র : বাসস
Leave a Reply