
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে পেশাগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সরকার। সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, শিক্ষকতার পাশাপাশি এখন থেকে নির্দিষ্ট ১১টি পেশায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন না। শিক্ষকতার মূল দায়িত্ব ও সময়ের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময় এক হওয়ায় আইন পেশায় অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা সেখানে শিক্ষকতা, কেজি স্কুল পরিচালনা, শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা বা পাবলিকেশন্সের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও যুক্ত থাকা যাবে না।নিষিদ্ধ পেশার তালিকায় আরও রয়েছে হজ্ব এজেন্ট বা এর মার্কেটিং কার্যক্রম, বিয়ের কাজী বা ঘটকালী পেশা, টং দোকান বা যেকোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা, ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা এবং মসজিদে পূর্ণকালীন ইমাম বা খতিবের দায়িত্ব পালন (যা শিক্ষকতার সময়কে প্রভাবিত করে)। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী বা চাটুকার হিসেবে নিয়োজিত থাকার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি অনুদানের আওতায় থাকায় তাদের পেশাগত শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়লে শিক্ষকতার মান, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে প্রজ্ঞাপন জারির খবরে শিক্ষক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ কেউ একে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, আবার অনেকে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বিকল্প আয়ের পথ সংকুচিত হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন ও তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply