1. admin@wordpress.com : Adminroot :
  2. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
  3. admin@wordpress.com : root :
বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির বিবেক হত্যার রক্তাক্ত স্মৃতি - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির বিবেক হত্যার রক্তাক্ত স্মৃতি

এস এম খোকন
  • রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে
বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির বিবেক হত্যার রক্তাক্ত স্মৃতি

এস এম খোকন : ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও কলঙ্কিত দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আল-বদর ও আল-শামস পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করে দেওয়া, জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা।

বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন একটি জাতির চিন্তা, চেতনা ও বিবেকের প্রতীক। তারাই সমাজকে পথ দেখান, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কলম ও কণ্ঠ তুলে ধরেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করেন। এই সত্যটি বুঝেই পাকিস্তানি হানাদাররা বেছে নিয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পথ। ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিবিশেষের মৃত্যু নয়, এটি ছিল একটি জাতির উপর সরাসরি আঘাত। স্বাধীনতার পর নবজাতক বাংলাদেশ বহু ক্ষেত্রেই এই মেধাহীনতার ক্ষতি অনুভব করেছে। যাঁরা বেঁচে থাকলে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন, তাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বিজয়ের সূর্যোদয়।

বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের শুধু শোক জানাতে শেখায় না, বরং দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। আজকের দিনে প্রশ্ন জাগে আমরা কি বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সম্মান দিতে পেরেছি? মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁদের আদর্শ কি আমরা ধারণ করছি?

বর্তমান সমাজেও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অপরিসীম। সত্য বলার দায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস এবং জনগণের পক্ষে কথা বলাই তাঁদের মূল দায়িত্ব। কিন্তু আজও যখন মতপ্রকাশের কারণে নানা চাপ ও সংকট দেখা যায়, তখন ১৪ ডিসেম্বর আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে বুদ্ধিজীবীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে কেবল ফুল দিয়ে স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়। তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি যেখানে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে অবাধ, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ হবে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার মূল ভিত্তি।

১৪ ডিসেম্বর আমাদের শোকের দিন, কিন্তু একই সঙ্গে এটি প্রতিজ্ঞার দিন। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্ত যেন বৃথা না যায় এই অঙ্গীকার নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

লেখক : এস এম খোকন

সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD