
নৌ-পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি অশোক মাধব রায় বলেছেন-‘প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিয়ে মানুষ হওয়া যায়না,আর্দশ মানুষ হতে গেলে ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষা অপরিহার্য, প্রকৃত অর্থে মানুষ হতে হলে ধর্মীয় উৎসব এবং ধর্মীয় আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতে হবে, তাই তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় আলোচনা সভায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে এবং গীতা শিক্ষা স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কেলি কানাইপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে অষ্টপ্রহর ব্যাপী লীলা সংকীর্তন সাধুসঙ্গ বৈষ্ণব মেলা মহোৎসব উপলক্ষে ভাগবতীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন- ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে সৎ পথে চলতে সাহায্য করে, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাড়া দেশে সাড়ে ৭ হাজার গীতা শিক্ষা কেন্দ্র চালু আছে, গীতা শিক্ষা কেন্দ্রে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ নারী-পুরুষদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়। এসব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণে ছেলে মেয়েদের উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও আখড়ায় আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আলোচনা সভায় নামহট্ট ইসকনের সাধারণ সম্পাদক সুমোক্ষ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী ও উৎসব কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর যুবরাজ গোপের সভাপতিত্বে এবং গীতা আলোচক প্রমথ সরকারের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন- ইসকন বাংলাদেশের সহ সভাপতি অদ্বেত নমদ্বীপ স্বামী মহারাজ, বিনয় স্বামী মহারাজ।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান গতি গোবিন্দ দাশ, ইসকন বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী, হবিগঞ্জ ইসকনের অধ্যক্ষ উদয় গৌর দাস ব্রহ্মচারী, ঢাকা উত্তরা ইসকনের অধ্যক্ষ শুভ নিতাই দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তি ছিলেন- আরব আমিরাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি রাখাল কুমার গোপ। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতাপাঠ করেন ব্রজকৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান শেফু, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন রায়,সাধারন সম্পাদক ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উত্তম কুমার পাল হিমেল,
সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা লোকনাথ সেবা সংঘের সাবেক সভাপতি নিতেশ রায়, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উত্তম কুমার রায়,বিষ্ণু পদ রায়,সাংবাদিক ছনি আহমদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের ঢল নামে। পরে বৈদিক নৃত্য,ধর্মীয় নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অনুষ্টানমালায় ২৬ জানুয়ারী শুক্রবার দিনরাতব্যাপী পালা ও পদাবলি কীর্তন এবং ২৭ জানুয়ারী দধিভান্ড ভঞ্জন ও সমাপনী কীর্তন রয়েছে।
Leave a Reply