হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জামে মসজিদে জুমার খুৎবায় আল্লামা লোকমান সাদী বলেছেন- অনেকে আমরা নামাজ পড়ি, তাতে আল্লাহভীতি থাকে না, আমরা দান করি, তাতে নিজের বড়ত্ব প্রকাশের একটা আকাংখা থাকে, আমরা কোরবানী করি, তাতে অহংকার থাকে।
লোক দেখানো এসব নামাজ, দান, কোরবানী জলে ভাসবে, আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। ইব্রাহিম (আ) ইসমাইল(আ)কে কোরবানী দেননি, তিনি তার মনকে কোরবানী দিয়েছেন, যার কারণে ইসমাইল(আ) কে কোরবানী হতে হয়নি। দানখয়রাত কম করেন, কোরবানী ছোট আকারে দেন, তবে এসবে শুধুই আল্লাহভীতি থাকতে হবে। একমাত্র আল্লাহর জন্য, আল্লাহকে খুশি করার জন্য আমাদের সবকাজ করতে হবে।
খোদাভীতির ছোট ছোট ইবাদত একেকটি ছোয়াবের পাহাড়ে পরিনত হবে, অহংকারের বড় বড় দান জলে ভাসবে, কোনো কাজে আসবে না। তিনি বলেন- জ্বিলহজ্জ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। সাহাবায়ে কেরামগন রাসুল (সা) এর কাছে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল(সা) আগেকার জামানার মানুষ হাজার বছরের হায়াত পেত, তারা শত বছর রোজা রেখেছে, মাসের পর মাস রাতে ইবাদত করেছে, আমরা তো দীর্ঘ হায়াত পাব না, তাদের ইবাদতের বিপরীতে আমাদের ইবাদত তো হবে সামান্য, ক্বিয়ামতের দিন আমাদের কী হবে। সাহাবায়ে কেরামগনের মনোবাসনার জবাব আল্লাহ পাক সূরা ক্বদর নাজিল করে জানিয়ে দিয়েছেন- তোমাদের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
একইভাবে আমাদের জন্য আল্লাহ কিছু দিন দিয়েছেন, যেমন জ্বিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন, হজ্জের দিন, আরাফার দিন, শুক্রবারের দিন ইত্যাদি। অথচ আমরা অবহেলায় এসব গুরুত্বপূর্ন দিনকে অতিবাহিত করি, গুরুত্ব দেই না, আমল করি না। সাম্প্রাতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সম্পর্কে আল্লামা সাদী বলেন- চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার কোনো উপায় নেই, কী অবর্ননীয় দুর্দশায় আছেন বানবাসীরা। মসজিদের এক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বাসায় কি একটা নূন্যতম পাঞ্জাবীও নেই, জবাবে ইমাম সাহেব বললেন- বন্যার পানি এতো দ্রুত এবং খরস্রোতা ছিল বাড়ির প্রত্যেকের পড়নের কাপড় ছাড়া সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা ৩শ পরিবারের জন্য ৪/৫ দিন খেতে পারেন এমন খাবার নিয়ে গেলাম।
অন্তত এক হাজার পরিবার খাবার নিতে চলে আসলেন। আমাদের চোখে পানি, কি দিয়ে তাদেরকে শান্তনা দেব, আমাদের তো তেমন সংগতি নাই। আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী একটি বক্তব্য দিলেন, সবার প্রতি সমবেদনা জানালেন। তিনি বলেন- আলেমদের তালিকা করে বেকলিস্ট করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে কারা দাড়িয়েছে? দেশের আলেম ওলামারা কোটি কোটি টাকার সহযোগিতা নিয়ে বানবাসীদের পাশে দাড়িয়েছেন।
কোরবানীর চামড়ার বাজার মূল্য না থাকাকে কওমী মাদ্রাসা বন্ধের পায়তারা হিসাবে উল্লেখ করে আল্লামা লোকমান সাদী বলেন- চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার মূল্য কমিয়ে দিয়েছেন। ৫ হাজার টাকার চামড়া ৫০ টাকায়ও বিক্রি করা যায় না। মাদ্রাসায় সহযোগিতা না করতে একটি শ্রেণীর মানুষ উৎসাহ দেয়। এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে কওমী মাদ্রাসা, লিল্লা বোর্ড, এতিমখানাকে ক্ষতিগ্রস্থ করা। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি, হবেও না। মাদ্রাসাগুলোতে সরাসরি আল্লাহর রহমত নাজিল হয়, চামড়ার টাকা না। মাদ্রাসার রহমতের আলো কেউ নিভাতে পারবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক ও আইনজীবি
তারিখঃ ১ জুলাই ২০২২
০১৭১১-৭৮২২৩২
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply