কাকাতিয়া সাম্রাজ্য যেনো শেষ বিকেলের মুছে যাওয়া আলপনা!

তেলেগুরা রোজ সকালে বাড়ির সদর দরজার সামনে আলপনা করে। এটি তাদের ঐতিহ্য। তেলেগু বলতে তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের অধিবাসীদের বোঝায়। তাদের ভাষা তেলেগু। আমরা যেমন বাংলায় কথা বলি, সেখান থেকে বাঙালি। তেমন তারা পরিচিত তেলেগু হিসেবে।

সাতসকালে ঘরবাড়ি-উঠান-রাস্তা ঝাড় দিয়ে সাদা চকে এঁকে দেয় সুদৃশ্য সব ফুলের নকশা। নকশার ঠিক মাঝখানে মাঝখানে শুকনো মরিচ ও হলুদের এক চিমটি গুঁড়ো। বাড়িতে অমঙ্গল ও জরা যেনো ঢুকতে না পারে সেজন্য এই রীতি।তেলেগু বাড়ির সদর দরজার বাইরে আলপনা ছবি: শুভ্রনীল সাগরপ্রায় এক হাজার বছর আগে যে অঞ্চলটি ওয়ারাঙ্গাল ফোর্টের মধ্যে ছিলো, সেখানে আজ দোকানপাট, ঘরবাড়ি উঠে গেছে। সকাল-সন্ধ্যা সামাজিক সংসার। ঘরের বাইরে আলপনা। এখন কে বলবে এই জেলাটি একসময়কার প্রতাপশালী কাকাতিয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিলো!

আজ সেই ‘রামও নেই, অযোধ্যাও নেই’। নেই হাতি-ঘোড়া, তলোয়ারের ঝনঝনানি। কেবল কিছু হাজার বছরের ‍পুরনো পাথরের স্মৃতি ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই ৯০০ খ্রিস্টাব্দে।

দক্ষিণ ভারতের একটি অংশের রাজা ছিলেন কিংবদন্তি শাসক দূর্জয়। ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন, তারই উত্তরপুরুষদের একটি ধারা থেকে এসেছেন কাকাতীয়রা।ওয়ারাঙ্গাল ফোর্টে ঢোকার পথ, ছবি: শুভ্রনীল সাগরচালুক্য রাজবংশের সঙ্গেও কাকাতিয়াদের যোগ রয়েছে বলে অনেকের মত।

ইতিহাসের পাতায় প্রতাপ রুদ্র (১ম) থেকে পরবর্তী শাসকদদের কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রতাপ রুদ্র (১ম) ১১৬৩ খ্রিস্টাব্দে স্বায়ত্তশাসিত কাকাতিয়া সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেও, ১০৮৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে তাদের যাত্রা। কিন্তু আগেকার কাকাতীয় শাসকদের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য মেলে না।

প্রতাপ রুদ্র (১ম) কাকাতিয়া সাম্রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন ‘ওরুঙ্গাল’-এ। ওরুঙ্গাল থেকেই এসেছে ওয়ারাঙ্গাল। বর্তমানে এটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের অন্যতম একটি জেলা। হায়দ্রাবাদ শহর থেকে ১৩৭ কিমি, তিন ঘণ্টার ট্রেন পথ। বাসেও যাওয়া-আসা যায়।ফোর্টের ভেতরে গড়ে ওঠা বসতি, ছবি: শুভ্রনীল সাগরওয়ারাঙ্গাল জেলাটি ভারতের অন্যতম ঘোষিত হেরিটেজ শহর। এর কারণ অবশ্যই কাকাতিয়া সাম্রাজ্য। সেসময়কার বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এখনও রয়েছে। বলা ভালো, নিদর্শনের ধংসাবশেষ।

তখন দিল্লিতে খিলজি রাজবংশের শাসনের অবসান

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *