রোহিঙ্গা নিয়ে `দলীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী: মোশাররফ

নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার দুপুরে রাজধানীর এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ, “প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ধরনের কথা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিএনপি বর্তমানে সবচাইতে জনপ্রিয় দল, সবচাইতে বৃহৎ দল। এ দলকে বিদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে সন্ত্রাসী বলা, জঙ্গি বলা- এটার নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। এটা অত্যন্ত দূঃখজনক।

“রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান তিনি প্রত্যাখান করে দলীয় রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ তাদের এই ধরনের পদক্ষেপ সমর্থন করবে না।”

নিউ ইয়র্কে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির মতো একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গিবাদী দল-তাদের সাথে বসতে হবে। তাদের সাথে বসে সমাধান করতে হবে- এই কথাটা আর কেউ বলবেন না, যেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য বিরোধী দলসহ বিএনপি সরকারের সঙ্গে আসবে কিনা এক সাংবাদিক জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধীরা কী বলল না বলল, সেটা নিয়ে তো রাজনীতি করি না।”

বিএনপিকে ‘গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে অভিহিত করে দলটির নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, “বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, একটি গণতান্ত্রিক মধ্যপন্থি দল, নির্বাচনমুখী দল। এই দল পাঁচবার দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছে জনগণের নির্বাচনের মাধ্যমে।

“প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নির্বাচিত হয়েছে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে, প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুস সাত্তার নির্বাচিত হয়েছেন এদেশে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এদেশের মানুষের ভোটের মাধ্যমে।”

বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলে আওয়ামী লীগ ‘ফের গায়ের জোরে’ ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে ভাষ্য খন্দকার মোশাররফের।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বিচার বিভাগ, সরকার বাহাস: বাংলাদেশে আইনের শাসনের ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ’।

এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজের সভাপতি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার কূটনীতিকভাবে ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ।

তিনি বলেন, “যখন চীনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে এসেছিলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন বাংলাদেশ-চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আকাশচুম্বি। ভারত থেকে ফিরে এসে বললেন, বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক হিমালয়ের পরিমাণ উচ্চতায়।

“আজকে আমরা দেখতে পারছি, রোহিঙ্গা সমস্যা যখন হল… আমরা যখন সঙ্কটে, এই রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তখন দেখছি আমাদের পাশে না থেকে- চীনও মিয়ানমারের পাশে, ভারতও মিয়ানমার পাশে।”

মিয়ানমারে দমন-পীড়ন শুরুর সময়ই বাংলাদেশ সরকার তা বন্ধে কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশে এত রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে আসতে বাধ্য হত না বলে ভাষ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের।

এক্ষেত্রে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থ হয়েছে বলছেন খন্দকার মোশাররফ।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পীড়নে ঘটনায় ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “ভারত জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মিয়ানমারের কাছে তারা অস্ত্র বিক্রি করছে। তারা নির্দেশ দিয়েছে কোনো রকম রোহিঙ্গা শরনার্থী ভারতে ঢুকতে পারবে না। তাদের বিএসএফকে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

“এই ইস্যুতে আমাদের সরকার সম্পূর্ণভাবে ‍কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যর্থতা হয়েছে। আমি বলব, এখন সময় এসেছে সরকারের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং (চীন) যাওয়া, মস্কো (রাশিয়া) যাওয়া, দিল্লী (ভারত) যাওয়ার। একলা নয়। তাদেরকে দেখানো সমগ্র জাতিসত্তা আমরা একত্রিত। দেশের অর্ধেক লোক বাদ দিয়ে এটা সম্ভব হবে না।”

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক হাসান তালুকদার, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা এবং মো. সালাহউদ্দিন খান বক্তব্য রাখেন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *