ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে নতুন মাত্রা, অনশনে শিক্ষার্থীরা

গত মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের ওই ‘হামলার’ যথাযথ বিচার না পেয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সাত শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর ভবনের বন্ধ ফটকের সামনে অনশনে বসেন তারা।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন- আইন বিভাগের কামরুন্নাহার ডানা, আশিক ইশতিয়াক, শেখ নোমান পারভেজ, সাদিয়া আফরিন প্রেমা, ম্যাথমেটিকস ও ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের আকাশ আহমেদ, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ইয়াসিনুর রহমান রনি ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাদ জিয়াউল হাসান।

আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে বহিস্কারের আদেশ জারি ও তার উপর হামলাকারী রেজিস্ট্রার শাহুল আফজাল, সহকারী রেজিস্ট্রার মাহি উদ্দিন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সিনিয়র অফিসার জাভেদ রাসেলের পদত্যাগের দাবিতে রোববার থেকে বিক্ষোভ করছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পরদিন সোমবার দিনভর বিক্ষোভ এবং উপাচার্যকে আটকে দেওয়ার পর মঙ্গলবার সকালেও কয়েকটি ভবন নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসা ক্যাম্পাসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।

শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তারা রেজিস্ট্রার শাহুল আফজাল, সহকারী রেজিস্ট্রার মাহি উদ্দিন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সিনিয়র অফিসার জাভেদ রাসেলকে বরখাস্তের দাবি জানান।

পরে শিক্ষার্থীদের ভবনের বাইরে সড়কে বিক্ষোভ চালাতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের বের করে দিয়েছে নিরাপত্তাকর্মীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার ডানা ওইদিন বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়াটে গার্ড তাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতর থেকে বের করে দিয়েছেন।

অনশনরত শেখ নোমান পারভেজ বলেন, “আন্দোলনের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। আমরা এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আমাদের বলা হয়, প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো কথা বলবে না। আমাদের উপর হামলার বিচার না পেলে আমরা অনশন অব্যাহত রাখব।”

এদিকে অনশনের পাশাপাশি শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সকালে সাত শিক্ষার্থীর অনশনকে ঘিরে অল্পকিছু শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আহসান আহমেদ অনিক বলেন, “বৃহস্পতিবার কোনো পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছি না আমরা। সকাল ১০টা থেকে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকরাও তাদের আন্দোলনে ‘একাত্মতা’ ঘোষণা করেছেন বলে তার দাবি।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুইদিন ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দেয়; তবে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বিজ্ঞপ্তিতে।

অনিক জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে তাদের বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তারা এই পরীক্ষা বর্জন করবেন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *