সম্পর্ক এত ভালো হলে প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন : ফখরুল

তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষা সমঝোতা’ বা ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কোনোটিই জনগণের কাছে ‘গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’।

শুক্রবার কারামুক্ত হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল।

তিনি বলেন, “সরকার যেটা বলেছেন যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে রয়েছে। সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে যদি থাকে, তাহলে এ ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।

‘‘শুধুমাত্র ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”

চারদিনের সফরে শুক্রবার দুপুরে নয়া দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা।

এ সফরে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিন ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম ‘অমীমাংসিত ইস্যু’ তিস্তা। সেই তিস্তা চুক্তি না করে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা ভালো ফল বয়ে আনবে না।

“প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে ইতিমধ্যে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছি। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি ন্যায্যা হিস্যা পাওয়া, ৫৮টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা পাওয়া।

“আমাদের সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে তার নিরসন হওয়া, ট্যারিফ-নন-ট্যারিফ বিষয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাধা রয়েছে, সেগুলো অপসারিত করা- এগুলো বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর যদি সমাধান না হয়, তাহলে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।”

ভারতসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের সকল সদস্য ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে’ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘‘বাংলাদেশের মানুষ সবসময় কেবল প্রতিবেশী দেশের কাছে নয়, সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে প্রত্যাশা করে যে, গণতন্ত্রকে এখানে ফলপ্রসূ করতে, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে গণতান্ত্রিক বিশ্ব তার ভূমিকা পালন করবে।”

জিয়ার কবর জিয়ারতের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আসাদুজ্জামান রিপন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মহানগরের কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান দলের মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন।

বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নাশকতার একটি মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর কারাগারে পাঠিয়েছিল আদালত। গত ২৩ মার্চ তিনি উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তি পান

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *