আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- দীর্ঘদিন যাবত হবিগঞ্জ পৌরবাসী কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। ৭শ ৩৯ দিন কারাভোগের পর আইন পক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে আমি আবারও পৌরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলাম। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা আমার পিছু ছাড়েনি। দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে সুনামগঞ্জে দায়ের করা মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে। আদালতে আমার বিরুদ্ধে ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ফলে আমাকে আবারও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইনশাল্লাহ, আইনি পক্রিয়া আমি আবারও আমার দায়িত্ব ফিরে পাব, পৌরবাসীর সেবার করার সুযোগ পাব। এ জন্য আমি হবিগঞ্জ পৌরবাসীর দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করছি।

রবিবার (২ এপ্রিল) সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মেয়র জি কে গউছ আরও বলেন- আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। রাজনীতি ও হবিগঞ্জবাসীর কাছ থেকে দুরে রাখতেই আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর আমাকে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। অথচ এই ঘটনার সময় আমি আমার বৃদ্ধ পিতাকে নিয়ে পবিত্র হজ্বব্রত পালনে মক্কা শরীফে অবস্থান করছিলাম।

দীঘ ১২ বছর পর আমাকে সুনামগঞ্জে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোম হামলার মামলায় আসামী করা হয়েছে। অথচ আমি জীবনে সুনামগঞ্জ যায়নি। এতেও ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষ্যান্ত হয়নি। আমাকে হত্যা করার জন্য হবিগঞ্জ কারাগারের ভিতরে কুখ্যাত এক খনিকে দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে প্রাণে বেঁচে যাই।

আমাকে কেন হত্যা করতে চায়, কার ইশারায় আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, কার ইন্দনে হবিগঞ্জ পৌরবাসীকে কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, হবিগঞ্জ পৌরবাসী তা উপলব্দি করছেন। আর এ জন্যই পৌরবাসী শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। পৌরবাসী প্রমাণ করেছেন, তারা আমাকে পছন্দ করেন। আমার চরম দুঃসময়ে হবিগঞ্জবাসী আমার পাশে দাড়িয়েছেন।

মেয়র বলেন- আমি রাজনীনিকে পবিত্র কাজ মনে করি। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করা যায়, কল্যাণ করা যায়। কিন্তু যারাই রাজীনিতিকে অপবিত্র করার চেষ্টা করেছেন তারা নিজেই অপবিত্র হয়েছেন, রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছেন। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি, করবেও না। তাই এখনও আমার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তাদের সম্পর্কে জনসম্মুখে কিছু বলিনি। আমি এসব বিচারের ভার হবিগঞ্জবাসীর উপর ছেড়ে দিয়েছি। আমি আমার ইমানী দায়িত্ব মনে করে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ জন্য হবিগঞ্জবাসী অতিতে আমার সাথে ছিল, আগামীতেও আমার সাথে থাকবেন, আমি তা বিশ্বাস করি।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *