আওয়ামীলীগের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত ॥ সদস্য পদ ফিরে পেলেও স্ব-স্ব পদ হারাচ্ছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরে পেলেও বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে যে সকল আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করেছেন সে সব নেতাদেরকে তাদের স্ব-স্ব পদ হারাতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশনা মোতাবেক হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। বাতিল করার হয় সকল আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাংগঠনিক পদ। তবে থাকছে সাধারণ সদস্য পদ। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, হবিগঞ্জ লাখাই থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আবু জাহির ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এমপিসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়। আর দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এক জন করে চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী দেয় আওয়ামীলীগ। কিন্তু দলীয় প্রতীক দেওয়ার পরও ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে একাধিক দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা যায় এবং তাদের পক্ষে অনেক নেতাকর্মী কাজ করে। যার ফলশ্র“তিতে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহন করে দলটি। তাৎক্ষণিক দল থেকে বহিস্কার করা হয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের পক্ষে কাজ করা নেতাদের। সম্প্রতি তাদের সাধারণ সদস্য পদ ফিরে দেওয়া হলেও তাদের স্ব-স্ব পদ হারাতে হচ্ছে বিদ্রোহী নেতাদের।

যে সকল চেয়ারম্যান, মেয়র ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলো, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হাসান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, মাধবপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহ মোঃ মুসলিম, মাধবপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনু রঞ্জন, মেয়র প্রার্থী হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, শায়েস্তাগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ নেতা মেয়র প্রার্থী আতাউর রহমান মাসুক প্রমুখ। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমপি আব্দুল মজিদ খান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও পৌর সভা নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেছে তাদেরকে বহিস্কার আদেশ প্রত্যার করে সাধারণ সদস্য পদ ফিরে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের স্ব-স্ব সাংগঠনিক পদ হারাতে হচ্ছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *