ইরাককে বাদ দিয়ে নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আদেশ ট্রাম্পের

সোমবার সই করা এ আদেশে ইরাক ছাড়া পুরনো তালিকার বাকি ছয়টি মুসলিমপ্রধান দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকছে। তবে এ দেশগুলোর গ্রিনকার্ডধারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

সব শরণার্থী ওপরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকছে আদেশে। তবে সিরিয়ার শরণার্থীদের ওপর আর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১৬ মার্চ থেকে।

এ আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ এরই মধ্যে যেসব শরণার্থীকে অনুমোদন দিয়েছে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। তবে একবছরের জন্য শরণার্থী প্রবেশের এ সংখ্যা সীমিত করে ৫০ হাজার করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকেও নতুন আদেশে কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

এর আগে ৭ মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দেয়। এরপর থেকেই নতুন করে আরেকটি নির্বাহী আদেশ দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এক নির্বাহী আদেশ জারি করে ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া,  সিরিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার মতো সাতটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিক-সহ শরণার্থীদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করেন ট্রাম্প।

২৭ জানুয়ারিতে কোনও আগাম নোটিশ ছাড়াই ট্রাম্প ওই আদেশ জারি করাতে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল।  কিন্তু এবার ১০ দিন আগে থেকেই নতুন আদেশ জারির নোটিশ দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে ‍বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তার ওই নির্দেশের পরই খোদ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব জুড়ে তীব্র আলোচনা সমালোচনা বিক্ষোভের ঝড় বয়ে যায়।

পরে সিয়াটল আদালত সেই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিলে ফের শরণার্থী ও মুসলিম অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দ্বার খুলে যায়। খারিজ হয়ে যায় ট্রাম্পের যুক্তিও।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *