খালেদা জিয়ার প্রতি বর্বরতার অবসান ঘটান : রিজভী

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি বলছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে প্রচণ্ড অসুস্থ বেগম জিয়াকে সুস্থ বলে ফেরত পাঠিয়েছে অন্ধকার কারাগারে।

সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতা মানুষের জীবনে স্থায়ী নয়। সময় অসময় হতে সময় নেয় না! আপনাদের ক্ষমতার দম্ভ চিরদিন থাকবে না। অমানবিকতা পরিহার করুন, এখনো সময় আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, সুচিকিৎসার সুযোগ দিন।’

আজ সোমবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘তিন বার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুধু প্রতিহিংসাবশত এমন নিষ্ঠুর বর্বরতম আচরণের অবসান ঘটান। তাকে মুক্তি দিন। জামিনে আর বাধা দিবেন না। ঔপনিবেশিক আমলেও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের রাজবন্দীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী বুধবার ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে আপনজন, আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। অবর্ননীয় কষ্টে আছেন ‘গণতন্ত্রের মা’। বিনা চিকিৎসায় বেগম জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারের পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সত্তরোর্ধ একজন প্রৌঢ় মহীয়সী নারী, যিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য আজীবন লড়ে যাচ্ছেন, তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাগারে ফেলে রেখে চরমতম মানসিক ও শারীরিক শাস্তি দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল রোববার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে এসে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। খুবই অসুস্থ আমি। চিকিৎসকরা দরকারী চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না। মাত্র একবার এসে চিকিৎসকরা দেখে গেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রক্ত নেয়া হয়নি। ডায়বেটিসের রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। থেরাপি ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে না। আমি সত্যিই অসুস্থ।’

রিজভী বলেন, ‘দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় নেত্রী নিজের মুখে এই প্রথম এমন ভয়াবহ অসুস্থতার কথা বললেন। তার স্বাস্থ্যের চরম ক্রমাবনতিতে দেশবাসীর মতো আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এক পয়সাও তসরুপ না হলেও দুই কোটি টাকার সাজানো মিথ্যা মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী রেখে আর কত প্রতিহিংসার জ্বালা মেটানো হবে?’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নানাভাবে আহবান এবং দাবি করে আসছি- বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে জামিনে মুক্তি দিন। জেলে নেয়ার পর থেকে তিনি প্রচন্ড অসুস্থ। দেশবাসী জানেন তিনি হাঁটতে পারছেন না। পা ফুলে গেছে। হাত অবশ। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখেও প্রচন্ড ব্যথা। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার পূর্বের অসুস্থতা এখন আরো গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলোসিসের জন্য কাঁধে প্রচন্ড ব্যথা, হিপ-জয়েন্টেও ব্যথার মাত্রা প্রচণ্ড। ঝুঁকিপূর্ণ শরীর। প্রতি মুহুর্তে আমরা তাকে নিয়ে আশঙ্কায় থাকি।’

রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়া বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে চাননি, শুধু চেয়েছেন বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে। অথচ সেই সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি। লোক দেখানোর জন্য তাকে কয়েকদিন বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে প্রচণ্ড অসুস্থ বেগম জিয়াকে সুস্থ বলে ফেরত পাঠিয়েছে অন্ধকার কারাগারে।’

তিনি আরো বলেন, “ভোট ডাকতির নির্বাচনে তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও মাঝে মাঝে গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা বলে ফেলেন। তাদের মধ্যে মহাজোটের শরীক কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলছেন ‘নির্বাচনী ব্যবস্থাকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশে এখন গণতান্ত্রিক কোনো স্পেস নেই, গণতান্ত্রিক স্পেস তৈরী করতে হবে।’ আগের রাতে ভোট দেয়ায়, প্রার্থীদের বাধা দেয়ায়, মনোনয়ন পত্র ছিঁড়ে ফেলায়, ঊর্ধ্ব মহলের ক্লিয়ারেন্স আছে কি না প্রার্থীদের নিকট এমন প্রশ্নও করেছে পুলিশ, টাকা ছড়ানো হচ্ছে-এই হলো বর্তমান ভোটের অবস্থা, ভোটের প্রতি এখন মানুষের কোনো আগ্রহই নেই।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বানোয়াট, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা ও ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য নায়াব ইউসুফ গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একজন মহিলা নেত্রীকে এভাবে মিথ্যা ও রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থের মামলায় কারান্তরীণ করার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নায়াব ইউসুফ এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

কর্মসূচি : 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৬ মার্চ বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *