আমাদের সব বাহিনী প্রস্তুত : পাকিস্তান

কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং তারা যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেছেন, যে কোন ভারতীয় আগ্রাসন প্রতরোধ করতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তার পূর্ব সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। দেশবাসীকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

বৃহস্পতিবার মেজর জেনারেল আসিফ গফুর আরো বলেন, একই সাথে পাকিস্তান নৌ ও বিমান বাহিনীও পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারতীয় সেনারা কোটলি, খুইরাত্তা ও তাত্তা পানি সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও তার যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

পাকিস্তান আইএসপিআর ভারতীয় হামলায় ৪ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা জানায়। তবে যে কোন পর্যায়ের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। এসময় জনগনকে কোন গুজবে কান না দেয়া এবং দায়িত্বশীলতার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আহ্বান জানিয়েছে।

আরো পড়ুন:

যেভাবে কারগিল যুদ্ধে আটক ভারতীয় পাইলটকে ফেরত দিয়েছিল পাকিস্তান

ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান আটক হয়েছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে। পাকিস্তানের বিমান হামলা চালাতে গেলে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের গোলা ধ্বংস হয় তার বিমান, প্রাণ বাঁচাতে প্যারাস্যুট নিয়ে লাফ দেন অভিনন্দন বর্তমান। শুক্রবার তাকে ভারতের কাছে ফেরত দেবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, শান্তির বার্তা হিসেবে পাইলটকে ফেরত দেয়া হবে।

এর আগে ১৯৯৯ সালেও কারগিল যুদ্ধের সময় এক ভারতীয় পাইলট আটক হয়েছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ওই পাইলটের নাম ছিলো কাম্বামতী নচিকেতা। সেই দিনটি ছিলো ২৭ মে ১৯৯৯। সেদিন ভারতীয় বিমান ২৬ বছর বয়সী বাহিনীর ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট কাম্বামতী মিগ-২৭ যুদ্ধ বিমান নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়েছিলেন। সে সময়ও পাকিস্তানের হামলায় তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ঘটনার দিন সকাল বেলায় পাকিস্তানি ভূখণ্ডে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে গিয়েছিলেন কাম্বামতী। একটি স্থাপনায় এক দফা বোম হামলা চালিয়ে আবার ঘুরে আসেন দ্বিতীয় দফা হামলা চালাতে। এসময় পাকিস্তানি আক্রমণের শিকার হয় তার বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি  ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া স্টিনজার ক্ষেপণাস্ত্রের গোলার আঘাতে আগুন ধরে যায় বিমানের ইঞ্জিনে। প্রাণ বাঁচাতে প্যারস্যুট নিয়ে লাফ দেন পাইলট কাম্বামতী। মাটিতে নামার পরই তাকে আটক করে পাকিস্তান। জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে আটক করা হয়েছিল।

এক সপ্তাহ পর তাকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। সেবারও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয় শান্তির বার্তা নয়া দিল্লিতে পৌছাতেই তারা ভারতীয় পাইলটকে ফেরত দেয়। আটদিন বন্দী থাকার পর তাকে হস্তান্তর করা হয় ভারতের হাতে। সে সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরীফ আর ভারতে তখন ক্ষমতা অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার।

আটকের ৮ দিন পর ৩ জুন ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয় নচিকেতাকে। মুক্তির আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অনিল তিপনিস টেলিফোনে কথা বলেন, পাইলট কাম্বমতী নচিকেতার সাথে। এরপর পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন দূত তাকে লাহোর-অমৃতসর সড়কের ওয়াঘা বর্ডারে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে পায়ে হেঁটে পাঠানো হয় সীমান্তে ভারতীয় অংশে। বিষয়টির মধ্যস্ততা করেছিল রেড ক্রসের পাকিস্তান শাখা।  ওই পাইলট বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত আছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *