এক শোকে দুই অর্জনের তৃপ্তি পেলেন সুবর্ণা

এক শোকের দিনে দুই অর্জনের তৃপ্তি পেলেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি হারিয়ে ছিলেন বাবা গোলাম মোস্তফাকে। এই দিনেই তিনি সংসসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কা একুশে পদক।

২০ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো সংসদে পা রেখে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস আমার জন্য ডিপ্রেসিং ছিল। বাবার মৃত্যু হয়েছিল এই মাসে। ১৬ বছর পর ফেব্রুয়ারিতে বাবার মৃত্যুদিনে শপথ নিলাম। একটু পর আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একুশে পদক নেব’।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এই প্রথম সংসদে নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি এবার একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন জীবনের ৫৯ বছর পেরিয়ে আসা এই অভিনেত্রী।

মঞ্চ ও টিভির গণ্ডি ছাড়িয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়েও নিজের মেধার সাক্ষর রেখেছেন সুবর্ণা; সেই পরিচয়ে অতিপরিচিত সুবর্ণার কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নতুন পরিচয় পাওয়া অনুভূতি কী?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘খুবই ভালো। আমি খুবই এক্সাইটেড। আমি জীবনে সংসদ ভবনে এই প্রথম ঢুকলাম। এত বড় … বিশাল লাইব্রেরি আছে’।

সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে নিজের ধারণা এখনও যে স্পষ্ট নয়, তা অকপটে স্বীকার করেন এই অভিনেত্রী।

‘এখনও কাজ কী? সেটা জানি না। যে কাজটি দেওয়া হবে, সেটা আমার শতভাগ দিয়ে করবো। এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত’।

‘সঠিকভাবে কাজ করলে ক্ষমতার জায়গাটা বাড়ানো যায়। অনেক ক্ষমতাধর মানুষেরা এই সংসদে এই টার্মে ক্ষমতায় নেই প্রায়। বোঝাতে পারলাম কথাটা,’ যোগ করেন তিনি।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন কাজগুলোকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন- এ প্রশ্নে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘সবকিছুই চ্যালেঞ্জ। অনেকের মনে হয় সংরক্ষিত বলে এখানে চলে আসাটা ইজি। আসলে তা নয়। মেয়েরা রাজনীতিতে এগোচ্ছে। সংরক্ষিত আসনটি তাদের এক ধরনের সাপোর্ট দেওয়া। এখান থেকে বেরিয়ে অনেকেই সরাসরি নির্বাচন করেছেন। দেখতে চাইলে আমি অর্ধেক গ্লাস ভরা আবার খালি দেখতে পারি’।

সুবর্ণা মুস্তাফাসহ ৪৯ জন বুধবার নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে শপথ নিয়েছেন। তার মধ্যে পাকিস্তান আমলে গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার প্রথম দাবি উত্থাপনকারী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্তও রয়েছেন।

সমাজসেবী আরমা দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নিয়ে আমি দায়বদ্ধ। ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুসহ যারাই যারা শহীদ হয়েছে তাদের কাছে আমি দায়বদ্ধ। যে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী সেই দায়িত্ব যাতে পালন করতে পারি…’।

আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,‘২৫ ফ্রেরুয়ারি করাচিতে আমার দাদু ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম আইনসভায় ভাষার দাবি তোলেন। আর আজ আমি উনার উত্তরসূরি হয়ে, আমার দাদুর উত্তরসূরি হয়ে আজকে বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্য হলাম। আমি যেন উনার, আমি যেন বঙ্গবন্ধুর রক্তের দাম দিতে পারি’।

প্রথম বার সংসদ সদস্য হওয়া সৈয়দা রুবিনা মিরা বলেন, ‘রাজপথে যেটুকু কাজ করতে পেরেছি এখন আমি আরও দ্বিগুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এবং দ্বিগুণ বেগে কাজ করতে পারব’।

বাসন্তী চাকমা বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম হিল ট্রাকস এবং ওখানকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব’।

জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমি সরকারে ভালো কাজের কথা বলব এবং উনারা যদি ভুল করে, তবে সেগুলো তুলে ধরব’।

ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের স্ত্রী লুৎফুন নেসা খান।

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী একসাথে আগের পার্লামেন্টে মেম্বার হয়েছেন, আপনারা জানেন। রওশন এরশাদ-এইচএম এরশাদ, রুহুল আমিন হওলাদার আর তার মিসেস। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকেও হয়েছেন। আর আমরা’।

তিনি বলেন, ‘একটা জীবনে প্রথম সারির ছাত্রনেত্রী ছিলাম। বিভিন্ন কারণে সরকারি চাকরি নিতে হয়েছিল। রিটায়ারের পর সমাজসেবার কাজ করেছি। এমপি হওয়ার পর কাজের পরিধি বাড়বে’।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *