এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপ নির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচনের তফসিল জানাতে মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিইসি।

আড়াই বছর আগে ঢাকা সিটির ভোটের সময় খালেদা গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণায় নেমে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

এবার খালেদা জিয়ার প্রচারে কোনো বাধা আসবে কি না- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, “প্রতিবন্ধকতার প্রশ্নই উঠে না; উনি (খালেদা জিয়া) বা উনার মতো কেউ প্রচারে গেলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।”

আগামী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া নূরুল হুদা বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ দেব আমরা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও যেন সহযোগিতা করে।”

গতবার নির্দলীয়ভাবে হলেও আইন সংশোধনের পর এবার দলীয় প্রতীকে লড়বেন ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থীরা।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য এই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরেক ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলামকে প্রার্থী করার করার ইঙ্গিত মিলেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; প্রার্থী মনোনয়নের ভার দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। গতবার বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি।

সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার এই উপ-নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে ইসি।

সিইসি বলেন, “সংসদ নির্বাচনের আগে রাজধানীর এ ভোটটি আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ তো বটেই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, আমরাও এটাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছি।

“এজন্যে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমসহ সবার তৎপরতাও থাকবে বেশি।”

এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে কোনো ধরনের আপস করবেন না তিনি।

“আমরা আপসহীন থাকব; কোনো কিছুর সঙ্গে সমঝোতা করব না। সবার অংশগ্রহণমূলক একটা নির্বাচন চাই আমরা; সকলে মিলে ভালো নির্বাচন করব। এজন্যে সরকারের সহযোগিতা দরকার। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটারসহ সবার সহায়তা করতে হবে।”

ঢাকা সিটির এ ভোট উৎসবমুখর হবে বলে আশা রাখেন নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, “আশা করি, এ নির্বাচন উৎসবমুখর হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো গণমাধ্যমকে বাধাও দেওয়া হবে না। তবে সাংবাদিক, পর‌্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা যেন নীতিমালা মেনেই কাজ করে-সেদিকে নজর রাখতে হবে।”

আগাম প্রচারণামূলক সামগ্রী নির্ধারিত সময়ে না সরানোয় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নূরুল হুদা।

ঢাকা উত্তরে নির্বাচন না হওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিইসি বলেন,  কেউ মামলা করলে তো তা নিয়ে ইসির করার কিছু নেই।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here