বেতন বোনাস না পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ি ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। এ জন্য শিক্ষক কর্মচারীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হীনতাসহ অবহেলাকে দায়ী করছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক তারিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক-কর্মচারীরা। নিয়মমাফিক যখন সভাপতিকে হাইকোট স্টে দিয়েছেন, তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বেতন ভাতা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বোনাসের কাগজ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যায়নি। যার কারণে কোনো শিক্ষক এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বেতন ভাতা ও বোনাস পাইনি।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেতন ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা নতুন কাপড় না পেয়ে দিনভর মন খারাপ করে ঘরের মধ্যে বসে ছিলো।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন , আমরা গত ফেব্রæয়ারি মাসেও সব শিক্ষকের স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বেতন তুলেছিলাম। কিন্তু মার্চ মাসের বেতন শিটে সহকারী শিক্ষক তারিকুল আমল চৌধুরী স্বাক্ষর না দেওয়ায় ওই মাসের বেতন নববর্ষের ভাতা এবং ঈদের বোনাসের শিট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যেতে পারিনি। এ জন্য কেউ বেতন ভাতা ও বোনাস উঠাতে পারেনি।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা জাহান বলেন, মামলা থাকলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন তোলার বিধান নেই। তবে নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বেতন তোলা যায়। মার্চ মাসে উল্লেখিত স্কুলের শিক্ষক /কর্মচারীদের বেতন আমার স্বাক্ষরে তোলা হয়েছে। হাইকোট স্টে থাকার কারণে এ অবস্থা তৈরী হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার কাছে এলে স্বাক্ষর দিয়ে বেতন ভাতা তোলার ব্যবস্থা করতাম। বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে না পারা দুঃখজনক।