পাকিস্তান ন্যাশনাল ডাটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি (NADRA) লিঙ্গ পুনর্নির্ধারণের জন্য ১৩/১ বিধি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মুহাম্মদ আনোয়ারের নেতৃত্বে ফেডারেল শরিয়া আদালতের দুই সদস্যের বেঞ্চ সিনেটর মুশতাক আহমেদ খানের আবেদনের শুনানি শেষে সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার আইন ২০১৮ এর বিরুদ্ধে আদালতকে বলা হয়েছিল যে চেয়ারম্যান NADRA ১৩/১ বিধি বাতিলের অনুমোদনের জন্য স্বাক্ষর করেছিলেন, তারপরে এটি এক মাসের জন্য বাতিল করা হয় এবং এক মাসের মধ্যে পরবর্তী বোর্ড মিটিং থেকেও অনুমোদন চাওয়া হবে। কৌঁসুলি আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন কেউ নিজের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারে কিনা তা আইনি এবং ধর্মীয় আলোকে বিচার করা উচিত। ১৮ অক্টোবর ২০২২ মঙ্গলবার আদালত আইনটি বাতিলের পক্ষে রায় দেন।
সিনেটর মোশতাকের আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে কেউ তাদের নিজের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারে কিনা তা আইনগত এবং ধর্মীয় আলোকে বিচার করা দরকার। আইন অনুযায়ী যে কোনো ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির নিজের লিঙ্গ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে, যেখানে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ কাউকে তাদের নিজের লিঙ্গ নির্ধারণের অনুমতি দেয় না।
তদুপরি, আইনজীবী আরও বলেছেন যে এমনকি আন্তর্জাতিক আইনও কাউকে তাদের লিঙ্গ বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। সিনেটর মোশতাক আদালতকে জানিয়েছেন যে তিনি এর আগে ট্রান্সজেন্ডার আইনে একটি সংশোধনী জমা দিয়েছিলেন এবং সিনেটে একটি নতুন বিল পেশ করেছেন, যা পর্যালোচনার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
আদালত নতুন বিলের কপি চেয়ে যুক্তিতর্কের জবাব দেন। হিজড়া সম্প্রদায়ের নাদিম গাকার এবং শাহানা আব্বাসও বিলে 'খানসা' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন, তারা দাবি করেছেন যে তাদের পরিচয়পত্রে তাদের লিঙ্গ হিসাবে 'এক্স' উল্লেখ করার কারণে তারা হজে যেতে পারেননা , তাদেরকে যেন যে কোন আরব দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।