৩৬ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিবাসীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কিন্তু নগরবাসীর কি বার্তা লেখা আছে সেই চিঠিতে? সেটি কেবল রানি ছাড়া আর কেউ জানেনা।আবার চাইলেই এখন কেউ খুলে দেখতে পারবে না চিঠিটা। রানির নির্দেশে চিঠি খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৮৫ সাল অর্থাৎ আরও ৬৩ বছর পর।আরও ৬৩ বছর পর চিঠি খুলবেন কে, সেই নির্দেশও রানি দিয়ে গেছেন।
২০৮৫ সালে সিডনির মেয়র হিসেবে যিনি দায়িত্বে থাকবেন তিনি খুলতে পারবেন চিঠিটা। এছাড়া আর কেউ এই চিঠিতে হাত দিতে পারবেন না।গত বৃহস্পতিবার ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ৭০ বছরের রাজত্বের অবসান হয়। আর এরপর থেকেই রানি এলিজাবেথ সম্পর্কে প্রকাশ পাচ্ছে অজানা বহু তথ্য ও ঘটনা। রানির গোপন চিঠির এই তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সংসবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ।
সেভেন নিউজ জানায়, ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে চিঠিটা লেখেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এরপর থেকেই সিডনির ঐতিহাসিক ভবন কুইন ভিক্টোরিয়ার একটি ভল্টের ভেতরে সংরক্ষিত আছে চিঠিটি।এর আগে সিডনির কুইন ভিক্টোরিয়া ভবনটি সংস্কার করা হয়। এলিজাবেথের প্রপিতামহী রানি ভিক্টোরিয়া নামে নামকরণ করা ‘কুইন ভিক্টোরিয়া বিল্ডিং’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৮৯৮ সালে। রানির ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও ওই চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু জানেন না। শুধু জানা গেছে চিঠিটি খোলার নির্দেশনামার বক্তব্য।
সাদামাটাভাবে ‘এলিজাবেথ আর’ স্বাক্ষরিত নির্দেশনামায় সিডনির মেয়রকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, ‘২০৮৫ সালের একটি উপযুক্ত দিন বেছে নিয়ে দয়া করে এই খামটি খুলবেন এবং সিডনির নাগরিকদের কাছে আমার বার্তা পৌঁছে দেবেন।’ব্রিটেনসহ মোট ১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন রানি এলিজাবেথ, অস্ট্রেলিয়া এর মধ্যে একটি। ১৯৫৩ সালে সিংহাসনে আরোহণের মাত্র দুবছরের পরই ২৭ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার আস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ধারণা করা হয় সে সময় সিডনির প্রায় ১০ লাখ মানুষ রানিকে দেখতে এসেছিল।শেষবার গিয়েছিলেন ২০১১ সালে, সেসময় জুলিয়া গিলার্ড অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। টানা সাত দশকের শাসনামলে মোট ১৬ বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন রানি এলিজাবেথ।