1. sm.khakon@gmail.com : bkantho :
প্রত্যেক গ্রামে গরীবে চেয়ে ধনী পরিবারের সংখ্যা বেশি ॥ তাহলে কেন এতো দুর্গতি? - বাংলা কণ্ঠ নিউজ
February 6, 2023, 6:03 am

প্রত্যেক গ্রামে গরীবে চেয়ে ধনী পরিবারের সংখ্যা বেশি ॥ তাহলে কেন এতো দুর্গতি?

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ
ফাইল ছবি

সর্বক্ষেত্রে আমি নিখাত পরিকল্পনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ। নিখাত পরিকল্পনা আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারে। আপনি একবার ৩০ মিনিটের জন্য দুই চোখ বন্ধ করে আপনার গ্রাম নিয়ে নিবৃতে চিন্তা করুন।

এর আগে কিছু মানুষের ও তথ্যের সহযোগিতা নিন। চিন্তা করুন আপনার জন্মভূমি গ্রাম নিয়ে। গ্রামের আয়তন কত, জন সংখ্যা কত, পরিবার কত। আপনার গ্রামের পরিবারগুলোকে ৭ শ্রেনীতে ভাগ করুন, যেমন ১। সরকারী চাকুরীজীবী পরিবার ২। বেসরকারী চাকুরীজীবী পরিবার ৩। ব্যবসায়ীক পরিবার, ৪। পরিবারের অন্তত একজন বা একাধিক লোক প্রবাসে আছে এমন প্রবাসী পরিবার ৫। নিজস্ব কৃষি জমি আছে, যা চাষাবাদ করে প্রতি বছর ঘরের ভাত খায় এমন পরিবার ৬। উপরুক্ত চার শ্রেণীর কেউ না, কিন্তু পরিবারে কর্মক্ষম পুরুষ সংখ্যা একের অধিক, যারা মানুষের বাড়িতে কাজ করে বা মওসুমী সবজী, ফল বিক্রি করে কিংবা গরু ছাগল লালন পালন করে এমন পরিবার, ৭। উপরুক্ত ৬ শ্রেণীর পরিবারগুলো ছাড়া অন্য পরিবার। ৭নম্বর পরিবারগুলো কিভাবে চলে, তাদের দৈনন্দিন খাবার কিভাবে জুটে একটু খোজ খবর নিন।

৭নম্বর পরিবারগুলোকে অতি দরিদ্র হিসাবে রেড মার্ক দিন। দৃশ্যটি আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, ৬ শ্রেনী বাদে যে পরিবারগুলো আপনার গ্রামে বসবাস করছে তাদের সংখ্যা ২০ ভাগের ১ ভাগের বেশি হবে না। অর্থাৎ আপনার গ্রামে যদি ৫শ পরিবার থাকে তাহলে অতি দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা হবে ২৫টি। ২৫টি অতি দরিদ্র পরিবারকে আলাদা করুন। ৪৭৫ টি পরিবারকেও আলাদা করুন।

৪৭৫টি পরিবার থেকে ধনীক শ্রেনীর একটি তালিকা করুন। তাদেরকে নিয়ে বসুন। আপনার গ্রামের অতি দরিদ্র ২৫টি পরিবারকে নিয়ে মাথা ঘামান। তাদের পনর্বসান, প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিকল্পনা করুন। অন্তত ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করুন। তাদেরকে কর্মমূখী করুন।

তাদের মাধ্যমে হাঁস, মুরগী,গরু,ছাগল,ভেড়া পালন করানো যায় কি না চিন্তা করুন । আমার বিশ্বাস ৩ বছর পর ২৫টি পরিবারের বসতঘরের প্রয়োজনীয়তা পুরণ হবে, তাদের দৈনন্দিন খাবারের প্রয়োজনীয়তারও একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। উপরুক্ত পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা একটি স্বপ্ন মাত্র। এর সাথে আপনার গ্রামের চিত্র মিলতেও পারে, নাও মিলতে পারে।

কিন্তু পরিস্থিতি প্রায় একই। গ্রামে গ্রামে এতো স্বচ্ছল মানুষ থাকতে গুটিকয়েক দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকার পিছনে কি আমাদের কোনো অবহেলা দায়ী নয়? এই যে, আমরা জাকাতের নামে মাছ মারার জাল কাপড় দেই, তাতে কি আজ পর্যন্ত কেউ উপকৃত হয়েছে? স্বাবলম্বী বা স্বচ্ছল হয়েছে? আসুন আমরা নিজের গ্রাম নিয়ে ছোট ছোট পরিকল্পনা করি, বড়বড় কাজ বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।এম এ মজিদ

লেখকঃ  আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
হবিগঞ্জ ২৩ জুন ২০২২
০১৭১১-৭৮২২৩২

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD