আজ সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস

বকুল আহমদ তালুকদার সুনামগঞ্জ ॥ আজ ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস। একাত্তরের এই দিন ভোরে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের দল শহরে ঢুকলে মুক্তিকামী জনতা আনন্দে রাস্তায় নেমে যোদ্ধাদের অভ্যর্থনা জানান। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা শহর। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হায়েনারা সুনামগঞ্জ পিটিআই ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

যাওয়ার সময় তারা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে যায়। পিটিআই টর্চারসেলে হত্যা করে যায় অগনিত মানুষকে। এভাবেই হাজারো মা-বোনের সম্ভ্রম, শহীদের রক্ত ও বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে মুক্ত হয় সুনামগঞ্জ।

সুনামগঞ্জকে হানাদারমুক্ত করতে বালাট সাব সেক্টরের কমান্ডার মেজর মোত্তালিব, ক্যাপ্টেন যাদব ও ক্যাপ্টেন রঘুনাথ ভাটনগর বিশেষ পরিকল্পনা নেন। যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী দখলদার বাহিনীর উপর আঘাত হানতে কয়েকটি কোম্পানিকে একাধিক গ্রুপে ভাগ করে আক্রমণের দায়িত্ব দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধারা যৌথভাবে তিনদিক দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ চালায়।

মুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করার আগেই দালালদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পাক হানাদাররা শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। যাওয়ার সময় পিটিআই টর্চারসেলে বন্দিদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সঙ্গে নিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা তালেব আহমদ, কৃপেন্দ্র ও নাম না জানা আরেক মুক্তি সেনাকে।

শহীদ সহযোদ্ধাদের হারানোর দিনগুলো ভুলে যাননি স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের মতে আজো পর্যন্ত স্বপ্নের কাঙ্খিত বাংলাদেশ আর প্রকৃত অর্থে মুক্তি মেলেনি। রয়েগেছে বৈষম্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন এখনও সুনামগঞ্জের অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি, অনেক মুক্তিযোদ্ধা অভাব অনটনে দিনযাপন করছেন, আজকের প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ক্ষেত্রেই সম্মান দিতে জানেনা, আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম সেটা হানাহানির বাংলাদেশ নয়’।

সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তপক অর্পণ করা হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন দিনটি নানা আয়োজনে উদযাপন করবে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *