সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয় এবং দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সচেতন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে মাজার দুটির বিপুল পরিমাণ দান ও সম্পদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকলেও এবার প্রশাসনের সরাসরি তদারকির ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার দুটি পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দান ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে মাজারের দান সংগ্রহ ও হিসাব ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দানের অর্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য নতুন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাজার দুটিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়। কিন্তু এসব অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব ও ব্যয়ের খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক এক সমন্বয় সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত হিসাব চাওয়া হলে তারা পূর্ণাঙ্গ ও সুসংগঠিত আর্থিক রেকর্ড উপস্থাপন করতে পারেনি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক ভক্ত। তাদের মতে, মাজারের দানকৃত অর্থ জনগণের আমানত। তাই এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অডিট এবং স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে ভক্তদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক কাজে দানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, মাজারের দানের অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না। বরং সকল অনিয়ম দূর করে মাজার, সংশ্লিষ্ট মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন, খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সিলেটের সচেতন মহল মনে করছে, শতাব্দীপ্রাচীন এই দুই মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে শুধু ভক্তদের আস্থাই বাড়বে না, বরং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এর মর্যাদাও আরও সুসংহত হবে।