রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আজ সকাল পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, ১. মো. কাশেম ফারুক বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। ২. মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
৩. রাকিব হোসেন শেরপুরের বাসিন্দা। তিনি সরাসরি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেন এবং হামলার ধ্বংসস্তূপের ছবি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে উসকানিমূলকভাবে পোস্ট করেন। ৪. মো. নাইম লুণ্ঠিত টাকাসহ কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার। ৫. ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত।
৬. মো. সোহেল রানা কারওয়ান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে।
৭. মো. শফিকুল ইসলাম: তাঁর বিরুদ্ধেও অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের দুটি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. নাইমের দেওয়া তথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, হামলার সময় তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেন। ওই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কেনেন। পুলিশ ইতিমধ্যে সেই টিভি ও ফ্রিজ উদ্ধার করেছে এবং তাঁর কাছ থেকে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা জব্দ করেছে।
একই সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান উপদেষ্টাকে জানায়, চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারী তিনজনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।