
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো মনে হলেও এবার তা বাস্তব হলো। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তৈরি হলো এমন এক ক্যামেরা, যা সরাসরি দেখতে পারবে হৃদস্পন্দন, রক্ত প্রবাহের গতিপথ এবং খুঁজে বের করতে পারবে মানবদেহের গভীরে লুকিয়ে থাকা রোগের চিহ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং চীনের সুজো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি।
বর্তমানে ব্যবহৃত নিউক্লিয়ার ইমেজিং প্রযুক্তি, বিশেষ করে SPECT স্ক্যান, দেহের ভেতরকার ছবি তুলে ধরলেও এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সিজেডটি (CZT) ডিটেক্টর মানসম্মত ছবি দিলেও এর দাম কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত। আবার সোডিয়াম আয়োডাইড ডিটেক্টর সস্তা হলেও ছবি ঝাপসা আসে। এ সমস্যার সমাধানেই এগিয়ে এসেছে নতুন আবিষ্কার পেরোভস্কাইট ক্যামেরা।
পেরোভস্কাইট ক্রিস্টালের ওপর দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেরকুরি কানাৎজিডিস। তিনি বলেন, “পেরোভস্কাইট সৌরশক্তিতে বিপ্লব এনেছে। এবার তা চিকিৎসা প্রযুক্তিতেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”
চীনের সুজো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইহুই হে জানান, নতুন এই সেন্সর প্রযুক্তি শুধু খরচই কমাবে না, বরং দেবে আরও স্পষ্ট ও নির্ভুল ছবি। ফলে আগের তুলনায় কম সময়ে, কম তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই ক্যামেরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র সংকেতও শনাক্ত করতে সক্ষম। এমনকি মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরত্বে থাকা তেজস্ক্রিয় উৎসকেও আলাদা করে দেখাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে রোগীদের স্ক্যান সময় কমবে, তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং সর্বোপরি চিকিৎসা সেবার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে।
গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।