ভূমির বিরুধকে কেন্দ্র করে বানিয়াচংয়ে গভীর রাতে বিধবা নারী ও তার কলেজ পড়ুয়া কন্যার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছেন আদমখানী গ্রামের সরদার জয়নাল মিয়া ও প্রভাবশালী মাহতাব মিয়া ও তাদের লোকজন। এসময় বাড়িঘর লুটপাট ও ব্যাপক ভাংচুর চালানোসহ দুজনকে শ্লীলতাহানি করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে এগারোটায় উপজেলা সদর ২ নং ইউপির আদমখানী গ্রামে। আহত মা মেয়েকে বানিয়াচং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, গ্রামের আব্দুল গণি মিয়া ৬ বছর আগে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী পারুল বেগমকে ভিটে থেকে উচ্ছেদের জন্য হিংস্র হয়ে ওঠেন গ্রামের সরদার (মাতব্বর) জয়নাল মিয়া ও প্রভাবশালী মাহতাব মিয়া। দীর্ঘদিন যাবৎ পারুল বেগমকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছেন তারা। পারুল বেগমকে হেনস্তা করতে তার ঘরের দরজার সামনে একটি গোয়াল ঘর তৈরী করে গাবধি পশু লালন পালন করেন জয়নাল সরদার। ফলে গরুর বিষ্টা মুত্রের গন্ধে পারুল ও তার পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এছাড়া ঘরের সামনে একটি দোকান ঘর (টং দোকান) তুলে এখানে উঠতি বয়সী যুবকদের আড্ডাস্থল করেন জয়নাল। দোকানে বসে পারুলের কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে নানাভাবে ইভটিজিং করে বখাটেরা। এসমস্ত বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার অদুদ মিয়ার কাছে বার বার বিচার প্রার্থী হলে তিনি উল্টো তার আত্মীয় জয়নাল ও মাহতাবের পক্ষালম্বন করেন। এ অবস্থায় পিাতাহারা এতিম কন্যা সন্তানকে নিয়ে নীপিড়ন সহ্য করে জীবন শঙ্কা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন পারুল।
এদিকে ছোট মেয়েকে গত ৪ মাসে আগে বিয়ে দেন পিতা মাহতাব। বিয়ের পর থেকেই তার ব্রেনে সমস্য হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মেয়ে অসুস্থ হওয়ার জন্য দায়ী করেন পারুল বেগমকে। মাহতাব তার পরিবারের লোকজন বলেন যে, পারুল তন্ত্রমন্ত্র যাদু করে তাদের মেয়েকে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। এমন উদ্ভট ও কাল্পানিক অভিযোগ এনে পারুলকে শারিরীক মানুসিক নির্যাতন করেন মাহতাব ও তার লোকজন।
কোনোক্রমেই পারুলকে উচ্ছেদ না করতে পেরে শুক্রবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১১ টায় মাহতাব মিয়া ও জয়নাল মিয়া এবং তাদের লোকজন প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের নারী পুরষের দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পারুল বেগমের ঘরে ঢুকে হামলা করে এবং ব্যাপক লটুপাট চালায়। এসময় পারুল ও তার কন্যাকে শ্লীলতাহনি করা হয়। হামলায় পারুল ও তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আহত হলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বানিয়াচং হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ দায়ের করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।