সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় মরাপাথর উত্তোলন বন্ধ কষ্টে জীবনযাপন ৫ হাজার শ্রমজীবীর

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, খলাগাঁও, জঙ্গলবাড়ি, বাঁশতলা ও লালঘাট এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মরাপথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এলাকায় ৫২ হাজারেরও বেশি শ্রমজীবী মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছেন। পাথর উত্তোলন চালু করার দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদের কাছে স্থানীয় প্রায় তিন শতাধিক শ্রমজীবী মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো: আবু বাক্কার সিদ্দিক।
আবেদনে উল্লেখ করা হয় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বিভিন্ন সময় নেমে আসা মরাপাথর উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন এই পাঁচ হাজার শ্রমজীবী সদস্য। এই অঞ্চলের শ্রমিকরা এক সময় কৃষিকাজ করে জীবিকা চালালেও গত কয়েক বছরে ভারতের বারুআগ্রাসন এই কৃষিজমিগুলোতে এসে পলি পড়ে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। কর্মহীন শ্রমিকদের একমাত্র অবলম্বন ছিল অনাবাদি জমিগুলোতে ভারত থেকে আসা মরাপাথর উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন চলা।
কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর ২৮ বর্ডারগার্ড বিজিবি কর্তৃক ওই সব এলাকায় মরাপাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়ায় এ শ্রমজীবী মানুষ বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েন। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহারে অর্ধহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বন্ধ থাকা মরাপাথর উত্তোলন দ্রুত চালু করে এই বিশাল বেকার শ্রমজীবী মানুষের জীবনজীবিকা নির্বাহের সুযোগ প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানান।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আহাদ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *